• শিরোনাম

    মহানবী (সা.)-কে ব্যঙ্গ : ফ্রান্সের ওপর খেপেছেন যেসব বিশ্বনেতা

    | ২৭ অক্টোবর ২০২০ | ২:০৩ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 223 বার

    মহানবী (সা.)-কে ব্যঙ্গ : ফ্রান্সের ওপর খেপেছেন যেসব বিশ্বনেতা

    সব আলোচনাকে ছাপিয়ে খবরের শিরোনামে এখন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ইসলামবিরোধী মনোভাব। মুসলমানদের কটাক্ষ করে নেতিবাচক মন্তব্য আর পদক্ষেপে সারাবিশ্বে রীতিমতো খলনায়ক হিসেবে পরিচিত হয়ে গেছেন তিনি। আর ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই ইসলামবিরোধী বিতর্কিত মন্তব্য ও অবস্থানের কারণে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মাঠে নেমেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান-সহ এক ঝাঁক বিশ্ব নেতা।

    গত ১৬ অক্টোবর ফ্রান্সের একটি সড়কে স্যামুয়েল প্যাটিক নামে এক ধর্ম বিদ্বেষী শিক্ষককে গলাকেটে হত্যা করে এক তরুণ। কারণ, ওই শিক্ষক ক্লাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ব্যাঙ্গচিত্র দেখিয়ে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’র ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। বিতর্কিত ওই শিক্ষককে হত্রার পরপরই ওই তরুণ ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন।



    এরপরই ইসলাম ধর্ম ও বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন বন্ধ করা হবে না বলে সাফ জানান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এমনকি বিশ্বনবী (সা.)-কে নিয়ে একটি বিতর্কিত কার্টুন দেখানোর জেরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ফরাসি শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটিকে সম্মান জানাতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ম্যাক্রোঁ এ কথা বলেন।

    এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই ইসলামবিরোধী বিতর্কিত মন্তব্য ও অবস্থানের কারণে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মাঠে নেমেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান-সহ এক ঝাঁক বিশ্ব নেতা। ইসলামের বিরুদ্ধে ফরাসি সরকারের নেতিবাচক পদক্ষেপ বা অবস্থানে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে। ম্যাক্রোঁকে ছাড় দিয়ে কথা বলছে না পশ্চিমা দেশগুলোও।

    তুরস্ক:

    বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দেয়ায় ম্যাক্রোঁর ‘মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ করানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। এমনকি ফরাসি পণ্য বয়কট করতে সারা বিশ্বের মুসলিমদের প্রতি সোমবার আহ্বান জানিয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

    পাকিস্তান :

    প্রেসিডেন্ট এরদোগানের পথে যোগ দিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁর তীব্র সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেন, একজন নেতার প্রধান বৈশিষ্ট হলো জাতিকে একত্র করা, ঐক্যবদ্ধ রাখা। তা না করে ম্যাক্রোঁ জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন। সংকটকালে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতেন।

    ইমরান খান আরো বলেন,‘মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর অবমাননাকর কার্টুন প্রদর্শনের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দিচ্ছেন ম্যাক্রোঁ। একইভাবে উসকে দিচ্ছেন তার জনগণকেও, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

    এমনকি এই ঘটনায় পাকিস্তানে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইসলামাবাদ।

    এদিকে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো ফরাসি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ আর নিন্দা জানিয়েছে কাতার, ফিলিস্তিন, মিসর, আলজেরিয়া, জর্ডান, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশ।

    কাতার :

    দেশটির দোকানপাট থেকে ফরাসি পণ্য সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে সব ধরনের পণ্য বয়কটের আহ্বান জানায় কাতার। বিভিন্ন শহরের পথে পথে লাগানো হয়েছে ফরাসি পণ্যবিরোধী পোস্টার।

    কুয়েত :

    ম্যাক্রোঁ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করায় কুয়েতেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফরাসি প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে চূড়ান্ত দায়িত্বহীন আখ্যা দিয়েছে ‘গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিল’।

    ধর্ম নিয়ে ম্যাক্রোঁর নানা ধরনের উপহাস এবং আক্রমণাত্মক মন্তব্যে ক্ষোভ জানিয়েছে পশ্চিমাদেশগুলোর নাগরিকরা।

    আয়ারল্যান্ড :

    ফরাসি প্রেসিডেন্টের ইসলাম নিয়ে বিরুপ কর্মকাণ্ডে আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত অধিকাংশ মুসলমানরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদমূলক স্ট্যাটাস দিয়ে- ইসলাম, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নিয়ে এসব ব্যঙ্গচিত্রের প্রতিবাদ করেন। শান্তির এই ধর্ম নিয়ে অশুভশক্তির এই ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা ভাবিয়ে তুলছে এখানকার মুসলমানদেরও। একই সঙ্গে ধর্ম নিয়ে কটু মন্তব্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইরিশরা।

    ডেনমার্ক :

    দেশটিতে বসবাসরত মুসলামানরা ম্যাক্রোঁবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অনেকে। যদিও দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    পর্তুগাল :

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ইসলাম ধর্ম নিয়ে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে পতুর্গালে থাকা মুসলমানরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এ ছাড়া সাধরণ পর্তুগিজ নাগরিকরা বলছেন, কারও ধর্ম নিয়ে এমন নেতিবাচক কাজ করা তার মোটেও উচিত হয়নি। ইউরোপে ধর্মীয় সম্প্রতি বজায় রাখতে দ্রুত ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান তাদের।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ এপ্রিল ২০২০

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ০৩ এপ্রিল ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দশদিক