• শিরোনাম

    মানব হত্যার দায় ও আমাদের করণীয়

    | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৭:১৮ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 117 বার

    মানব হত্যার দায় ও আমাদের করণীয়

    মানব হত্যা সবচেয়ে বড় পাপ। রাসূল সা: বলেছেন, তোমরা সাতটি মহাপাপ থেকে বেঁচে থাকো। এ সাতটি মহাপাপের প্রথমটি হলো আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা। আর তৃতীয়টি হলো অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা। (বুখারি : ৬৮৫৬)
    কিয়ামতের দিন মানুষ হত্যার বিচার করা হবে সবার আগে। তারপর অন্যান্য অপরাধের বিচার করা হবে। রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে মোকদ্দমার ফয়সালা হবে, তা হলো রক্তপাত (হত্যা) সম্পর্কিত।’ (বুখারি : ৬৩৫৭; মুসলিম : ৩১৭৮) অন্য একটি হাদিসে এসেছে, ‘কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীকে নিয়ে আসবে। হত্যাকারীর চুলের অগ্রভাগ ও মাথা নিহতের হাতের মুষ্টিতে থাকবে আর তার কণ্ঠনালী থেকে তখন রক্ত ঝরতে থাকবে। সে বলবে, হে আমার রব, এ ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছে। এমনকি সে তাকে আরশের কাছে নিয়ে যাবে।’ (তিরমিজি : ২৯৫৫; মুসনাদ আহমদ : ২৫৫১)
    মানবসমাজে কোনো রকম অশান্তি সৃষ্টি, নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, হানাহানি, উগ্রতা, বর্বরতা, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড কোনো বিবেকবান ও ধর্মপ্রাণ মানুষের কাম্য নয়। বিশ্বজনীন শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবজাতির জন্য কল্যাণকামী একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থার নাম ইসলাম। যেকোনো ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড থেকে সমাজ ও দেশকে মুক্ত রাখতে হলে আমাদের সবাইকে আল্লাহর বিধান এবং রাসূল সা:-এর নির্দেশ মেনে চলতে হবে। আল্লাহর আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধরনের অন্যায়, অবিচার ও যাবতীয় পাপাচার থেকে একনিষ্ঠভাবে তাওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে আসতে হবে। রাসূল সা: বলেছেন, ‘কোনো মুমিন বান্দা যদি আল্লাহর কাছে এমন অবস্থায় হাজির হয় যে, সে কারো রক্ত ঝরায়নি, অর্থাৎ কোনো হত্যাকাণ্ডে জড়ায়নি, তাহলে আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায় তাকে ক্ষমা করে দেয়া। (মুসলিম : ১৩৯ ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার ধর্ম। ইসলামে মানব হত্যা জঘন্যতম অপরাধ। পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাপী এর ছড়াছড়ি চলছে। মানব হত্যা জাতি হত্যারই নামান্তর। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি কাউকে (অন্যায়ভাবে) হত্যা করল, সে যেন পৃথিবীর সব মানুষকেই হত্যা করল। আর যে ব্যক্তি কারো জীবন রক্ষা করল সে যেন পৃথিবীর সব মনুষের জীবনই রক্ষা করল।’ (সূরা আল মায়িদাহ : ৩২)
    জাহিলি যুগে আরব সমাজে যখন ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতির প্রচলন ছিল তখন পেশিশক্তির জোরে খুনখারাবি, হত্যাকাণ্ড, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, ঘুষ-দুর্নীতি সবকিছুই অবাধে চলত। ইসলামের আবির্ভাব সব প্রকারের হত্যা, রক্তপাত, অরাজকতা, সন্ত্রাস ও সহিংসতাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। রাসূলুল্লাহ সা: ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে শান্তি, স্থিতিশীলতা, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার মর্মবাণী ঘোষণা দিয়ে বিদায় হজের ভাষণে বললেন, ‘তোমাদের রক্ত তথা জীবন ও সম্পদ পরস্পরের জন্য হারাম; যেমন আজকের এই দিনে, এই মাসে ও এই শহরে অন্যের জানমালের ক্ষতিসাধন করা তোমাদের ওপর হারাম।’
    অন্যায়ভাবে কোনো ব্যক্তিকে হত্যার পরিণাম নিশ্চিত জাহান্নাম। কুরআনে এসেছে, ‘আর যে ব্যক্তি জেনে বুঝে কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম। সেখানে সে চিরকাল থাকবে। তার ওপর আল্লাহর ক্রোধ ও লানত বর্ষিত হতে থাকবে। আল্লাহ তার জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন।’ (সূরা আন নিসা, আয়াত : ৯৩) মানুষকে হত্যা করার মতো চরমপন্থা গ্রহণের অবকাশ ইসলামে নেই। আর হত্যা করা সামাজিক অনাচার ও অত্যাচারের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কুরআনে মানব হত্যাকে চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তোমরা তাকে হত্যা করো না।’ (বনি ইসরাইল, আয়াত : ৩৩) একবার হামজা রা: নবী সা:-এর কাছে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন পথ বলে দেন যা আমাকে সুখী করবে। রাসূল সা: বললেন, মানুষের জীবন রক্ষা এবং ধ্বংস করাÑ এ দুটির মধ্যে তুমি কোনটি পছন্দ করো? হামজা রা: বললেন, মানুষের জীবন রক্ষা করা। রাসূল সা: বললেন, দুনিয়া ও আখেরাতে সুখী হওয়ার জন্য তুমি এ কাজই করতে থাকো। (মুসনাদে আহমাদ : ৬৪৬০)
    যখনই কেউ অন্যায় ও অবৈধভাবে মানুষ হত্যায় লিপ্ত হয়, তখন তার ওপর থেকে আল্লাহর রহমত ও বরকত উঠে যায়। হত্যা, বর্বরতা ও নাশকতার ফলে পৃথিবীর শান্তি বিনষ্ট হয় এবং ভূপৃষ্ঠে একের পর এক শাস্তি ও বিপর্যয় আপতিত হয়। রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘একজন প্রকৃত মুমিন তার দ্বীনের ব্যাপারে পূর্ণ প্রশান্ত থাকে, যে পর্যন্ত সে অবৈধ হত্যায় লিপ্ত না হয়।’ (বুখারি : ৬৮৬২) আল্লাহ তায়ালা মানুষের জীবনের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য কিসাসের মতো কঠোর শাস্তির বিধান দিয়েছেন। কিসাস হচ্ছে কেউ কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করলে এর শাস্তিস্বরূপ ঘাতককে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কিসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।’ (সূরা আল বাকারা : ১৭৮) আবার এই কিসাসের মধ্যে আল্লাহ মানবজাতির জীবন নিহিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন। ‘হে বুদ্ধিমানগণ! কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পারো। (সূরা আল বাকারা : ১৭৯)
    হত্যা এমন একটি অপরাধ যা ব্যক্তিকে ঈমানহারা করে ছাড়ে। রাসূলুল্লাহ সা: কোনো মুসলিমকে অন্যায়ভাবে হত্যা করাকে কুফরি বলে আখ্যায়িত করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসেকি এবং তাকে হত্যা করা কুফরি।’ (বুখারি : ৪৮) অতএব, কোনো ব্যক্তি তার মধ্যে ইমান থাকা অবস্থায় অন্য মুসলিম ভাইকে হত্যা করতে পারে না। কারণ মুসলিম তো কেবল সে-ই হতে পারে, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে। রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেন, ‘খাঁটি মুসলিম হচ্ছে সে, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।’ (বুখারি) পরিশেষে বলব, আমরা সবাই যদি সমাজে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করি এবং তাকওয়াভিত্তিক সমাজব্যবস্থা চালু করতে পারি তাহলে মানব হত্যা কমে আসবে।

    Facebook Comments



    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দশদিক