• শিরোনাম

    যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন

    | ১৭ ডিসেম্বর ২০২০ | ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 167 বার

    যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন

    যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে জাতি গতকাল বুধবার ৫০তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছে একাত্তরে আত্মোৎসর্গকৃত শহীদ ও অকুতোভয় বীর মুক্তিসেনাদের প্রতি। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে স্মরণ করেছে সর্বস্তরের মুক্তিকামী মানুষের প্রতিও, যারা আমাদের স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনতে ভূমিকা রেখেছিলেন। কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করেছে বেঁচে থাকা সব মুক্তিযোদ্ধাকেও। লাখো প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত বিজয়ের আনন্দকে রোমন্থন করতে প্রতি বছর দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে আসছে আমাদের বিজয় উৎসব। করোনার কারণে এবারে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানমালায় কিছুটা পরিবর্তন এনে সীমিতভাবে পালন করা হয়। তারপরও বিজয়ের এ আনন্দে শামিল হতে মানুষের ঢল নামে।
    সাভার থেকে আমান উল্লাহ পাটওয়ারী জানান, হাতে লাল-সবুজের পতাকা আর রঙ-বেরঙের ফুল, হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা নিয়ে প্রাণের উচ্ছ্বাসে ৫০তম বিজয় দিবসে গতকাল বুধবার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি বিনম্ন শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সর্বস্তরের জনতা। বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ঢেকে যায় জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল শহীদ বেদি। যেখানে ছিল সব বয়সীরাই। নানা স্লোগানে আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে স্মৃতিসৌধকে ঘিরে গোটা এলাকা যেন পরিণত হয় উৎসবে। রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামীম উজ জামান। পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী। শহীদদের স্মরণে এ সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকে এবং তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর পরপরই জনসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার স্মৃতিসৌধের পরিস্থিতি ভিন্ন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেই আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। পরে সর্বসাধারণের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল ফটক খুলে দেয়া হয়। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা লোকজনকে ছোট ছোট দলে ভাগ করে ভেতরে ঢোকানো হয়।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বলেছেন, সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রশ্নে কারো সাথে আপস নয়। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
    সকাল সোয়া ৯টার সময় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সামনে রেখে পালিত হচ্ছে এবারের বিজয় দিবস। তবে বিজয় মিললেও মুক্তি মেলেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



    পরে স্মৃতিসৌধের বেদিতে একে একে শ্রদ্ধা জানায়Ñ আশুলিয়া থানা কৃষকলীগ, আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগ, ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, প্রবীণ হিতৈষী সঙ্ঘ কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়ন, জাকের পার্টি, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, ভিসি-জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, মাদারল্যান্ড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, গণগ্রন্থাগার অধিদফতর, বঙ্গবন্ধু কর্মচারী পরিষদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, গণবিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ প্রাক্তন সৈনিক সংস্থা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ গণ আজাদী লীগ, বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জাসদ, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশ রেলওয়ে, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, এডাব, জাতীয় পার্টি, আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় ১৪ দল, ঢাকা জেলা যুবদল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল ঢাকা জেলা, জনতা ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা জেলা বিএনপি, ঢাকা জেলা ছাত্রদল, জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম ঢাকা জেলাসহ বিভিন্ন সংগঠন। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার স্মৃতিসৌধে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল কম। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের প্রায় সব জায়গাতেই যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে।

    গোপালগঞ্জ : বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান; সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের মানুষ। এ ছাড়া সদর উপজেলা কমপ্লেক্সে অবস্থিত বধ্যভূমিতে এবং শহরের লঞ্চঘাটে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
    হবিগঞ্জ : দুর্জয় স্মৃতিসৌধে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এর আগে সেখানে বিজয়ের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মো: আবু জাহির এমপি, হবিগঞ্জ-২ আসনের এমপি ও সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ।
    চুয়াডাঙ্গা : শহীদ হাসান চত্বরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। এ সময় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা পরিষদ ও রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

    শরীয়তপুর : শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে জেলাবাসীর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো: পারভেজ হাসান। পরে পর্যায়ক্রমে পুলিশ সুপার এস এম আশ্রাফুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।
    নড়াইল : জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে স্মৃতিসৌধ, গণকবর, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, গণকবর জিয়ারত ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেনÑ জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা সেলিম প্রমুখ।
    জয়পুরহাট : জেলা প্রশাসক মো: শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সরকারি বিভিন্ন বিভাগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাসদ, সিপিবি, জাপা, বাসদ, বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদ ডা: আবুল কাশেম ময়দানে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
    সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা-খুলনা রোড মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপির নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক সাতনদীর সম্পাদক হাবিবুর রহমান, আরটিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, ডিবিসির এম জিল্লুর রহমান, আমিরুজ্জামান বাবু প্রমুখ।
    বান্দরবান : সূর্য উদয়ের সাথে সাথে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। সকাল ৮টায় বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে পুলিশ বাহিনীর সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেনÑ পুলিশ সুপার জেরিন আখতার, জেলা প্রশাসক মো: শফিউল আলম, মো: লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আব্দুল কুদ্দুস, রেজা সরোয়ারসহ সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
    বগুড়া : জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ তাদের নিজ নিজ চত্বরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ও ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। সকালে জেলা প্রশাসক মো: জিয়াউল হকের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, পুলিশ প্রশাসক আলী আশরাফ ভূঞা, জেলা পরিষদে চেয়াম্যান ডা: মকবুল হোসেন ও বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল আলম নয়ন উপস্থিত ছিলেন।
    কুমিল্লা : সকাল সাড়ে ৬টায় কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা, জেলা প্রশাসক মো: আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে নগরীর সিটি পার্কে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জেলা প্রশাসক এ কে এম সামছুল হক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে শহীদ পুলিশ সুপার মুন্সী কবির উদ্দিনের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
    মেহেরপুর : গতকাল সকালে সূর্যোদয়ের পরপরই জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান সরকারি কলেজ মোড়ে অবস্থিত শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পর পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী, মুুুক্তিযোদ্ধা ইউনিট, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে অ্যাডভোকেট পল্লব ভট্টাচার্য, স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল, পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, উপজেলা পরিষদ, গণপূর্ত বিভাগ, সরকারি মহিলা কলেজ, এলজিইডি বিভাগ, জেলা যুবলীগ, মেহেরপুর সরকারি কলেজ, জেলা কারাগার, শিল্পকলা একাডেমি, সমাজসেবা বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
    বাগেরহাট : সকাল ৭টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের দশানীস্থ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো: মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায়, সিভিল সার্জন কে এম হুমায়ুন কবির, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোছাব্বেরুল ইসলাম, বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ড. আজাদ ফিরোজ টিপু, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শওকত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
    রাজশাহী ব্যুরো জানায়, যথাযোগ্য মর্যাদায় রাজশাহীতে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। বিজয়ের প্রথম প্রহর থেকেই রাজশাহীর শহীদ মিনারগুলোতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুরু হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জেলা পুলিশ লাইন্সে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। পরে একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা ও সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানান।
    নওগাঁ সংবাদদাতা জানান, শহরের মুক্তির মোড়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথমে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মো: হারুন অর রশীদ। পরে পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মো: আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
    কুষ্টিয়া সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জেলায় বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন ও পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত। এ সময় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়। পরে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিজয় র্যালি, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা হচ্ছেন আমাদের সবচেয়ে সাহসী সন্তান। তাদের কল্যাণেই আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন তা যেন কিছুতেই ভূলুণ্ঠিত না হয় সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। গতকাল বিজয় দিবস উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নগরের ৩২৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর আগে সকালে নগরভবনের সম্মুখে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিটি মেয়রসহ সিসিকের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    ০৯ এপ্রিল ২০২০

    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দশদিক