• শিরোনাম

    যেভাবে দেশব্যাপী প্রতারণার জাল বুনতেন সাহেদ

    | ১৬ জুলাই ২০২০ | ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 301 বার

    যেভাবে দেশব্যাপী  প্রতারণার জাল বুনতেন সাহেদ

    মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান তিনি। টিভি টকশোতে উপস্থিতি ও প্রভাবশালী ব‌্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে তার প্রচার করে পেয়েছেন ‘প্রভাবশালী’ তকমা। এগুলোকে পুঁজি করে দেশব্যাপী প্রতারণার জাল বুনেছেন সাহেদ। নিজের হাসপাতালে করোনা টেস্টের নামে প্রতারণা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে জাল শিক্ষা সনদ বিক্রি, তদবির বাণিজ্য, ব্ল্যাকমেইলিং ও জাল টাকার কারবার করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।

    ভুয়া করোনা রিপোর্ট:



    সাহেদের অর্থ কামানোর অন‌্যতম উৎস ছিল করোনা টেস্টের নামে প্রতারণা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর পর চতুর সাহেদ তার মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালে অনেক মানুষের নমুনা সংগ্রহ করে। সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে নিজের অফিসে বসে কম্পিউটারে করোনা পজিটিভ-নেগেটিভ রিপোর্ট বানিয়ে বিক্রি করতেন। প্রায় ২০ হাজার ভুয়া করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট বিক্রি করে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

    জাল শিক্ষা সনদ:

    সাহেদের মালিকানায় উত্তরায় একটি কলেজ এবং গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এ দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল তার অবৈধ আয়ের অন্যতম খাত। এখানে তিনি ২ থেকে ৫ লাখ টাকায় বিভিন্ন ধরনের ভুয়া সনদ বিক্রি করতেন। এর তথ্য-প্রমাণ আছে র‌্যাবের কাছে।

    ব্ল্যাকমেইলিং:

    সাহেদ ১৫ থেকে ২০ জন সুন্দরী তরুণীর দল নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার কাছে থেকে কেউ পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে উত্তরার রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের একটি কক্ষে এসব তরুণীর সঙ্গে ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন।

    তদবির বাণিজ্য:

    বিভিন্ন সরকারি অফিসে চাকরি দেওয়া কিংবা সরকারি কাজ বাগিয়ে দেওয়ার নামে তিনি দুই শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে তাদের কাউকে কোনো কাজ দিতে পারেননি তিনি। টাকা ফেরত চাইতে গেলে ভুক্তভোগীদের সন্ত্রাসী বাহিনী কিংবা নিজের গানম্যান দিয়ে ভয়-ভীতি দেখানো, মারধর এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিতেন। এরকম বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী ইতোমধ্যেই গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।

    জাল টাকার কারবার:

    বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাবের প্রধান কার্যালয়ে বাহিনীর মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সাহেদকে যখন গ্রেপ্তার করা হয় তখন তার সঙ্গে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এসব টাকা জাল। এর আগেও সে জাল টাকা বাজারে ছড়িয়েছে। টাকাগুলো সে নিজেই ছাপাতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তের পরই বিস্তারিত বলা যাবে।’

    সাহেদের নামে ৫৪ মামলা:

    বিভিন্ন সময় সাহেদের বিরুদ্ধে ৫৩টি মামলা হয়। পুলিশ ও র‌্যাবের তদন্তে জানা যায়, প্রতারণা, টাকা নিয়ে ফেরত না দেওয়া, মানুষকে ভয়-ভীতি দেখানো, ব্যাংকের ঋণ নিয়ে বছরের পর বছর ঘোরানোর অভিযোগে এসব মামলা করেন ভুক্তভোগীরা। সর্বশেষ বুধবার (১৫ জুলাই) সাতক্ষীরায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়। কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও বেশিরভাগ মামলায় আদালতে হাজির না হয়ে বছরের পর বছর বীরদর্পে প্রতারণা চালিয়ে গেছেন সাহেদ।

    র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের পরিচালক লেফটেন‌্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমরা সাহেদের প্রতারণার সব তথ‌্যই পেয়েছি। প্রমাণও আছে। তিনি যেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে আর প্রতারণা করতে না পারেন, সেজন্য আইন অনুযায়ী তার শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    ০৯ এপ্রিল ২০২০

    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দশদিক