• শিরোনাম

    রোগের শুরুতেই জানাটা খুব জরুরি

    মোহাম্মদ আজাদুর রহমান | ১৬ এপ্রিল ২০২০ | ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 640 বার

    রোগের শুরুতেই জানাটা খুব জরুরি

    শুভ সকাল মনবল হারাবেন না, শক্ত থাকুন। সবার জ্ঞাতার্থে সংক্ষিপ্ত আকারে করোনা ভাইরাস ধারা সংক্রমণ, সুস্থতা এবং মৃত্যু হার নিয়ে পরিসংখ্যানমূলক উপস্থাপন করছি। আমরা একটু খেয়াল করলেই দেখবো, যেসমস্ত দেশ করোনাকে সিরিয়াসলি নিয়েছে সেই সমস্ত দেশে এখনো পর্যন্ত করোনা ধারা ক্ষতির হার খুবই কম পরিলক্ষিত হচ্ছে। উদাহরণ হিসাবে, চীন (৮২২৯৫-৩৩৪২-৭৭৮৩৩ মৃত্যুহার ৪.০০%), দক্ষিণ কোরিয়া (১০৫৯১-২২৫-৭৬১৬ মৃত্যুহার ২.১২%), জার্মানি (১৩২২৮৬-৩৪৯৮-৬৩৭২০ মৃত্যুহার ২.৬৪%), তাইওয়ান (৩৯৫-৬-১৩৭ মৃত্যুহার ১.৫৯%), সিঙ্গাপুর (৩২৫২-১০-৬১১ মৃত্যুহার ০.৩%), এবং জাপানের (৮৫২১-১৭৫-৯০১ মৃত্যুহার ২.০৫% যদিও এখনো সেরকম সিরিয়াস নয় lucky may be) পরিসংখ্যান খেয়াল করলেই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। আমরা এই পরিসংখ্যান থেকে একটি ব্যাপার স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি, করোনা হলেই সবাই মারা যাচ্ছেনা। উপরে উল্লিখিত দেশগুলো এখনো পর্যন্ত মৃত্যুহার খুবই সর্বনিন্ম পর্যায়ে রাখতে পেরেছে তার মুলে রয়েছে, এই দেশগুলো শুরু থেকেই এই মহামারীর ব্যাপারে যথেষ্ঠ সচেতন ছিলো এবং এখনো আছে।
    চলেন সংক্ষিপ্তভাবে দেখে নেই এই দেশগুলো কিভাবে এখনো মহামারীকে তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখেছে:
    ১) সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে চলাফেরা এবং মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
    ২) পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা যার ফলে আগে থেকেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী।
    ৩) রোগের লক্ষণ থাকুক বা না থাকুক প্রচুর পরিমানে করোনা টেস্ট করা।
    ৪) খুব দ্রুত টেস্ট করে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ। যেহেতু যেকোনো রোগের ক্ষেত্রেই যদি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা যায় তাহলে চিকিৎসা করা সহজ এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি, তাই এই নীতি অনুসরণ করে দেশগুলো সফল।
    একটু স্মরণ করলেই দেখবেন, মহামারীর শুরুতেই চীন থেকে একটা প্রমোদ তরী জাপানে নোঙ্গর করে যেটাতে ৭১২ জন নাবিক ছিল। শুরুতে শুধুমাত্র অল্প কয়েকজন নাবিক সংক্রমিত হওয়ার সাথে সাথে তরীটিকে আইসোলেট করে ফেলা হয় এবং তরীতে থাকা সমস্ত নাবিকের করোনা টেস্ট করে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই ট্রিটমেন্ট করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে আজ পর্যন্ত প্রায় সবাই সুস্থ হয়েছে এবং বাকিরাও সুস্থ হওয়ার পথে (৭১২-১৩-৬৪৫ মৃত্যুহার ১.৮২%)।

    তাই সবাইকে অনুরুধ করবো নিজের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করতে
    ১) নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং ভিটামিন সি এ সম্মৃদ্ধ খাবার বেশি করে খান।
    পাশাপাশি :
    ২) সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখুন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন।
    ৩) কোনো ভাবেই হতাশ হবেননা এবং মনোবল হারাবেনা।
    ৪) রোগের লক্ষণ উপলব্দি করার সাথে সাথে ডাক্তার দেখান অথবা ঘরোয়া চিকিৎসা করুন (প্যারাসিটামল, কাশির ঔষধ, নিউমোনিয়ার ঔষধ সাথে রাখুন) এবং নিজেকে পরিবারের সবার কাছ থেকে আইসোলেট করে ফেলুন।
    ৫) বেশি বেশি গরম আদা লেবু চা এবং তিন বেলা গরম খাবার খান, এবং অবশ্যই দিনে দুইবার দাঁতব্রাশ করার পাশাপাশি গরম লবণযুক্ত পানি দিয়ে গার্গল করুন(২-৩ মিনিট)।
    ৬) সরকারকে অনুরুধ করুন বেশি বেশি মানুষের (লক্ষণ থাকুক অথবা না থাকুক) টেস্ট করতে যাতে দ্রুততার সাথে রোগ নির্ণয় করে রোগের শুরুতেই ট্রিটমেন্ট পাওয়া যায়।
    মনে রাখবেন: রোগের শুরুতেই জানাটা খুব জরুরি



    মোহাম্মদ আজাদুর রহমান
    ডক্টর অব সায়েন্স ইন এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স
    শিক্ষক, জাপান।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০২ এপ্রিল ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দশদিক