• শিরোনাম

    শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করুন

    | ৩০ আগস্ট ২০২১ | ১:৩৭ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 253 বার

    শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করুন

    গত বছরের ১৭ মার্চ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখনো দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেনি। এক বছর পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটানা সম্ভবত কোনো দেশেই বন্ধ নেই। ইউনেস্কোর তৈরি করা একটি সারণি থেকে দেখা যাচ্ছে, যেসব দেশ করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সেখানেও এভাবে শিক্ষার সব দ্বার একসাথে বন্ধ করে বসে থাকেনি। ওই সব দেশের চালচিত্র থেকে দেখা যাচ্ছে অন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে বন্ধ রাখলেও যখনই সুযোগ এসেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে কোন বিবেচনায় দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে, তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। যেখানে ভারতে করোনা পরিস্থিতি আমাদের চেয়েও খারাপ হয়েছে; সেখানেও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়নি।
    ইউনেস্কোর তৈরি সারণিতে দেখা যাচ্ছে, করনোকালীন বিভিন্ন দেশের স্কুলগুলোর চারটি স্ট্যাটাস হলোÑ পড়াশোনা একেবারে বন্ধ বা একাডেমিক ব্রেক, আংশিক পড়াশোনা, পুরোপুরি বন্ধ ও পুরোপুরি স্কুল খোলা। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে করোনার পাশাপাশি রাজনৈতিক অবস্থা খুবই নাজুক। এর মধ্যেও স্কুল কার্যক্রম আংশিক চালু রয়েছে। ভারতে স্কুল কার্যক্রম আংশিক খোলা। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের শিক্ষাকার্যক্রমও আংশিক চলু আছে। এ ছাড়া করোনার মধ্যে শিক্ষাকার্যক্রম পুরোপুরি চালু রয়েছে বিশ্বের অনেক দেশে। আমাদের দেশে টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে শিশুদের পাঠ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রথমে দেখা গেল ওই প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। পরে দেখা গেল এ ধরনের কার্যক্রম ফলপ্রসূ নয়। পাশাপাশি অনলাইনেও কিছুটা কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা হয়েছে। তাও ফলপ্রসূ হয়নি। তবে দেশে ইংরেজিমাধ্যম স্কুলগুলো অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম পুরোপুরি চালিয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির পূর্ণ সুযোগ নেয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ১৪৫টি ইংরেজিমাধ্যম স্কুলে ২৭ হাজারের মতো ছাত্রছাত্রী করোনাকালে তাদের শিক্ষাকার্যক্রম চালু রাখতে পেরেছে। অবস্থাসম্পন্ন মানুষেরা তাদের সন্তানদের এ মাধ্যমে পড়ান।
    সর্বশেষ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়িয়েছে। এর পরে যে, স্কুল শিগগিরই খুলবে সে সম্ভাবনাও ক্ষীণ। কারণ টিকাপ্রাপ্তি এবং করোনা সংক্রমণ হার কমার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, অন্তত চলতি বছরে তা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে। আরো দেড় মাসের বেশি সময় কেন বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে নেয়া হবে এর কোনো যুক্তি তিনি দেখাননি। অথচ দেশে দৈনন্দিন সব কাজ স্বাভাবিকভাবে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কথাই ধরা যাক। এখানকার শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। শুধু তাই নয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, শপিংমল ও সামাজিক কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। গণপরিবহন চালু হয়েছে। এগুলোতে আগের মতোই গাদাগাদি করে চলাচল করছে মানুষজন। দেশের কোথাও লকডাউন নেই। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলতে অসুবিধা কোথায়? অন্য দিকে স্কুল, কলেজ খুলে দেয়ার কোনো সময়সীমা কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেনি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নিজেরাই একটা প্রতিশোধ নিচ্ছি। করোনা একটি উছিলা মাত্র।
    ইউনিসেফের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনার মধ্যে দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। এতে করে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী একটানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী একসাথে দীর্ঘ বঞ্চনার শিকার আর কোথাও হচ্ছে বলে আমাদের জানা নেই। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে নানা ধরনের মানসিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর খেসারত অদূরভবিষ্যতে জাতিকে দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্কুল আঙিনায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক উদ্যোগ খুব জরুরি। এটা অসম্ভব ছিল না। কারণ করোনার সংক্রমণ সারা দেশে একসাথে ঘটেনি। দেশের এমন অনেক এলাকা রয়েছে যেখানে করোনার সংক্রমণ শূন্যের কোটায় ছিল। এমনকি অনেক জায়গায় সংক্রমণ ৫ শতাংশের ওপরে উঠেনি। ওই সব এলাকায় আনায়াসে স্কুল, কলেজ খুলে দেয়া যেত। স্বাস্থ্যবিধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তা করা যেত। দুর্ভাগ্য আমাদের, সব শিশু প্রায় দেড় বছর তাদের জীবন থেকে হারানোর পর সামনে আরো কতদিন হারাবে তাও অজানা।

    Facebook Comments Box



    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

  • ফেসবুকে দশদিক