• শিরোনাম

    সঙ্কট মোকাবেলায় আরো সাড়ে ১৪ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি করতে চায় সরকার

    | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১০:১২ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 210 বার

    সঙ্কট মোকাবেলায় আরো সাড়ে ১৪ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি করতে চায় সরকার

    সঙ্কট মোকাবেলায় আরো সাড়ে ১৪ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি করতে চায় সরকার। এর মধ্যে চাল আমদানি করা হবে ১১ লাখ ছয় হাজার ৮৫৮ মেট্রিক টন এবং গম আমদানির পরিমাণ তিন লাখ ৪২ হাজার ৬৭১ মেট্রিক টন। এই খাদ্যশস্য চলতি অর্থবছরের বাদবাকি সময়কালে আমদানি করা হবে। অর্থবছরের বাকি সময় রয়েছে সাড়ে চার মাসেরও কম। এত অল্প সময়ে এই খাদ্যশস্য আমদানি করা নিয়েও অনেকটা সংশয় রয়ে গেছে।

    এত বিশাল পরিমাণ খাদ্যশস্য আমদানির কারণ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান করোনা পরিস্থিতির পাশাপাশি গত বছর বন্যা, অতিবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড় আমফানের কারণে খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাহত এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ কারণে চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট সময়ের জন্য আরো প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চালের পরিমাণ ১১ লাখ ছয় হাজার ৮৫৮ মেট্রিক টন এবং গমের পরিমাণ হচ্ছে তিন লাখ ৪২ হাজার ৬৭১ মেট্রিক টন। সম্প্রতি দেশে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের চাহিদা ও মজুদ-সংক্রান্ত খাদ্য বিভাগের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই চিত্রটি তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।



    খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি উদ্যোগে খাদ্যশস্য সংগ্রহের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩১ লাখ ৩৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ( চাল ২৪ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন ও গম ছয় লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন)। কিন্তু অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়া এবং সরকারি সংরক্ষণাগারে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকার কারণে খাদ্যশস্য সংগ্রহের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ লাখ ৫৫ হাজার সাত মেট্রিক টন। এর মধ্যে চালের পরিমাণ ১৮ লাখ ৬৪ হাজার ৮২৯ মেট্রিক টন এবং গমের পরিমাণ হচ্ছে পাঁচ লাখ ৯০ হাজার ১৭৮ মেট্রিক টন।

    অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার কারণ সম্পর্কে খাদ্য বিভাগ জানায়, সরকার ঘোষিত ধান ও চালের মূল্য বাজারদরের তুলনায় কম হওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গত বোরো মৌসুমে ধান ও চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। চলতি আমন মৌসুমেও এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে মনে করছে খাদ্য বিভাগ।

    এ দিকে খাদ্যশস্য সংগ্রহের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই ২০২০-জানুয়ারি ২০২১) ওএমএস-সহ সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে মোট খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৩৯ লাখ ৬৪৫ মেট্রিক টন (চাল ১০ লাখ ৩৮ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন ও গম তিন লাখ ৭৩৫ মেট্রিক টন)।

    খাদ্য বিভাগের মতে, নিরাপত্তা মজুদ হিসাবে আরো ১০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য (আট লাখ মেট্রিক টন চাল ও দুই লাখ মেট্রিক টন গম) প্রয়োজন। সে হিসাবে চলতি বছরের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য সংগ্রহের মোট চাহিদা দাঁড়াচ্ছে ২১ লাখ ১৫ হাজার ৩৬২ মেট্রিক টন (চাল ১৬ লাখ ২৫ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন ও গম চার লাখ ৮৯ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন)।

    এর বিপরীতে খাদ্য বিভাগের গত ১ ফেব্রুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, সরকারি সংরক্ষণাগারে মোট ছয় লাখ ৬৫ হাজার ৮৩৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য (চাল পাঁচ লাখ ১৯ হাজার ৬১ মেট্রিক টন ও গম এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৭২ মেট্রিক টন) মজুদ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে সরকারি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরো ১৪ লাখ ৪৯ হাজার ৫২৯ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি করা প্রয়োজন। এর মধ্যে চালের পরিমাণ ১১ লাখ ছয় হাজার ৮৫৮ মেট্রিক টন এবং গমের পরিমাণ হচ্ছে তিন লাখ ৪২ হাজার ৬৭১ মেট্রিক টন।

    জানা গেছে, চাহিদার বিপরীতে ইতোমধ্যে ভারত থেকে চার লাখ টন চাল আমদানির ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ভারত ও মিয়ানমার থেকে আরো দুই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্য দিকে আর্জেন্টিনা থেকে ইতোমধ্যে এক লাখ টন গম আমদানির চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আরো ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    ০৯ এপ্রিল ২০২০

    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে দশদিক