• শিরোনাম

    সব ভাষার স্রষ্টা আল্লাহ

    এস এম আরিফুল কাদের | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 454 বার

    সব ভাষার স্রষ্টা আল্লাহ

    সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ। ভাষাও এর বাইরে নয়। সব ভাষার স্রষ্টা আল্লাহ। সেহেতু কোনো ভাষাকে অবজ্ঞা করার কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহ সব ভাষাই জানেন এবং যে ভাষায় তাকে ডাকা হোক না কেন, তিনি বোঝেন। দুনিয়ায় যে শত শত ভাষা রয়েছে, তা আল্লাহর বিশেষ কুদরত। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কারিমে ইরশাদ করেনÑ ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে অবশ্যই জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।’ (সূরা রুম : ২২)
    বাংলা ভাষা দুুনিয়ার অন্যতম ভাষা। এ ভাষাও মহান আল্লাহর দান। বাংলা যেহেতু আমাদের মাতৃভাষা। সেহেতু এ ভাষার প্রতি আমাদের মমত্ববোধ থাকতে হবে। মাতৃভাষাকে ভালোবাসা প্রতিটি মুসলমানের জন্য সুন্নত। কারণ রাসূল সা: তাঁর মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ করতেন। বিশুদ্ধভাবে তাঁর মাতৃভাষা আরবি চর্চায় তিনি ছিলেন পথিকৃৎ।
    চলছে ফেব্রুয়ারি মাস। যা আমাদের কাছে ভাষার মাস হিসেবে পরিচিত। সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ আরো অনেকে এ মাসেই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। ভাষা আন্দোলনে বাঙালি এমন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে যেমনটা বিশ্বের কোথাও খুঁজে পাওয়া বিরল। এক সহিংস রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি মাতৃভাষার মর্যাদা।
    বাংলা ভাষায় নিজেদের জড়িয়ে রাখতে বাঙালিদের উদ্বুদ্ধ করে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ গবেষক ও প্রবাদপুরুষ আল্লামা সাইয়ীদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ: বলেছেন, ‘বাংলা ভাষার সাধারণ চর্চা এখন আর যথেষ্ট নয়। এ কাজ সবাই করবেন। এখন কিছু মানুষকে বাংলা ভাষার কর্তৃত্ব হাতে নেয়ার জন্য প্রাণপণ সাধনায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। এটা যেমন আলেমদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য জরুরি, তেমনি বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান ও খোদ বাংলা ভাষার জন্যও অপরিহার্য। বাংলা ভাষার শোধন, সংস্কার ও সমৃদ্ধির জন্য এ কাজ অপরিহার্য।’ (ইনকিলাব, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)
    বাঙালি আলেম সমাজ কবে থেকে সাহিত্যিক ধ্যান-ধারণা নিয়ে বাংলা ভাষা চর্চা শুরু করেছিলেন তার নির্দিষ্ট দিন-তারিখ নেই। তবে যত দূর জানা যায়, উনিশ শতকের শেষার্ধ থেকে আলেমসমাজ সঙ্কীর্ণ পরিসরে হলেও বাংলা ভাষাচর্চায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং বাংলা ভাষায় লেখালেখি ও প্রকাশনায় আত্মনিয়োগ করে। তন্মধ্যে ইসলাম ধর্মকেন্দ্রিক প্রথম বাংলা পত্রিকা প্রকাশ করেন মাওলানা কাজী আবদুল খালেক রহ:। সিপাহি বিপ্লবের ২০ বছর পর ১৮৭৭ সালে তিনি ‘আখবারে মোহাম্মদী’ নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। সূচনালগ্নে আলেমসমাজের মাতৃভাষা চর্চার ক্ষেত্রে ‘আখবারে মোহাম্মদী’ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। তারপর এ ক্ষেত্রে আমরা দু’জন আলেমকে অগ্রপথিক ও পথিকৃৎ হিসেবে গণ্য করতে পারি। তাদের প্রথমজন হলেন মুন্সী মোহাম্মদ রিয়াজুদ্দীন আহমদ এবং দ্বিতীয়জন হলেন মাওলানা মোহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ইসলামাবাদী। (কমাশিসা, ৪ জুন ২০১৬)
    এ ছাড়া একজন বিখ্যাত বাঙালি বুজুর্গ ফুরফুরার পীর সাহেব হজরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহ:। যার পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সাহায্যে প্রকাশিত হয় বাংলা ভাষায় মোসলেম হিতৈষী, ইসলাম দর্শন, হানাফি শরীয়ত, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, হেদায়েত প্রভৃতি সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকাগুলো। এসব পত্রপত্রিকা প্রকাশের জন্য তার কিছু খলিফাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তার হাজার হাজার খলিফার মধ্য থেকে মাওলানা রুহুল আমিন, মাওলানা মুয়েজুদ্দীন হামিদী, মাওলানা নেছারুদ্দীন প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মাওলানা রুহুল আমীন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা সম্পাদনা ছাড়াও প্রায় দেড় শ’ ইসলামী পুস্তক রচনা করেন। মাওলানা রুহুল আমীন ছাড়াও যারা ওই সময় পত্রপত্রিকা পরিচালনা এবং বই-পুস্তক রচনা করে বাংলা সাহিত্যে অবদান রাখেন তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ মাওলানা আহমদ আলী (নবযুগ), মাওলানা আহমদ আলী এনায়েতপুরী (শরীয়তে ইসলাম), মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী (সাপ্তাহিক ছোলতান, দৈনিক হাবলুল মাতীন, দৈনিক আমির, মাসিক আল-ইসলাম প্রভৃতি), মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান (আজাদ ও মোহাম্মদী পত্রিকাদ্বয়ের নিয়মিত লেখক), মাওলানা আজিজুর রহমান (তাবলিগ) মাওলানা নূর মোহাম্মদ আজমী (মোহাম্মদী ও আজাদ), মাওলানা শেখ আ: রহিম (তরজুমানুল হাদিস ও আরাফাত), মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী (বহু ইসলামী গ্রন্থ প্রণেতা)। পরবর্তী যুগে যেসব ওলামায়ে কেরাম বিভিন্ন পত্রপত্রিকা পরিচালনা ও বই পুস্তক রচনার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় ইসলামী সাহিত্যের নবযুগ সৃষ্টি করেছেন তাদের মধ্যে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান (মাসিক মদিনা, সাপ্তাহিক নেজামে ইসলাম, দৈনিক নাজাত, ত্রৈমাসিক মীনার), মাওলানা আমিনুল ইসলাম (মাসিক আল বালাগ), মাওলানা রুহুল আমিন খান (ইনকিলাব), মাওলানা মুহিউদ্দিন শামী (মাসিক তাহযীব), মাওলানা রেজাউল করিম (তমদ্দুন), মাওলানা হাকীম আবদুল মান্নান (মাসিক হামদর্দ, পূর্বদেশ), মাওলানা মাহমুদুল হাসান (মাসিক আল জামিয়া)। (বাংলাদেশ প্রতিদিন ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)
    লেখক : আলেম ও প্রাবন্ধিক



    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৩ এপ্রিল ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে দশদিক