• শিরোনাম

    হযরত উসমান (রা.) এর যে দানে এখনও উপকৃত হচ্ছে মানুষ

    | ১১ জুলাই ২০১৯ | ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 344 বার

    হযরত উসমান (রা.) এর যে দানে এখনও উপকৃত হচ্ছে মানুষ

    ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে ওয়াকফ মূলত এমন সম্পত্তি যা সাধারণভাবে সকল মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এই সম্পত্তি কুক্ষিগত করে কেউ ব্যক্তিগতভাবে পুঁজি অর্জন ও ভোগ করতে পারবে না। এই সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত অর্থ শুধু দাতব্য কাজেই ব্যবহার করা যাবে। মদীনায় মুসলমানদের হিজরতের সময় মদীনাবাসীর পান করার মত পানির যথাযথ কোন উৎস ছিল না। শুধু একটি পানির কূপ ছিল যার পানি সকলে পান করতো। তবে সেটি ছিল এক ইহুদির দখলে এবং সে এই পানির জন্য চড়া মূল্য রাখতো।

    হযরত উসমান (রা.) তখন কূপের মালিকের কাছে কূপটি কেনার প্রস্তাব দেন যাতে করে মদীনাবাসী বিনামূল্যে কূপটির পানি ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু ইহুদি এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। ফলে হযরত উসমান (রা.) তার থেকে কূপটি ভাড়া নেওয়ার প্রস্তাব দেন। ইহুদি তাকে প্রতি একদিন পর দ্বিতীয় দিনে কূপটি ভাড়া দিতে সম্মত হয়। হযরত উসমান (রা.) তার নির্ধারিত দিনে সকলের জন্য বিনামূল্যে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। ফলে হযরত উসমান (রা.) এর ভাড়া করা দিনে মদীনাবাসী তাদের প্রয়োজনীয় পানির সংস্থান করে নিত। অন্যদিকে ইহুদির জন্য নির্ধারিত দিনে কেউই তার কাছ থেকে পানি নিতে আসতো না। এতে ইহুদি বাধ্য হয়ে হযরত উসমান (রা.) এর কাছে কূপটি বিক্রি করে দেয়। হযরত উসমান (রা.) বিশ হাজার দিরহামে কূপটি কিনে নিয়ে মদীনাবাসীর জন্য ওয়াকফ করে দেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত চৌদ্দশো বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও এই কূপটি অভাবী-দরিদ্র মানুষের কল্যাণে এবং হাজীদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে কূপটির চারপাশে কূপের পানি ব্যবহার করে বিশাল এক খেজুর বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। সউদি আরবের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই বাগানটি তত্ত্বাবধান করা হয়। বাগানের খেজুর বিক্রয় থেকে যা আয় হয়, তা সমান দুই ভাগ করে এক ভাগ এতিম ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করে দেওয়া হয়।



    অপর ভাগ হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) এর নামে এক বিশেষ ব্যাংক একাউন্টে জমা করা হয়। সউদি ওয়াকফ মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি তত্ত্বাবধান করে। এই টাকা হজ্জ্বযাত্রীদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার কাজসহ অন্যান্য দাতব্য কাজে ব্যবহার করা হয়। মানব কল্যাণে একনিষ্ঠ দানকে মহান আল্লাহ এভাবে ওমর করে রাখেন। ব্যক্তি পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু তার দান ও অন্যান্য ভালো কাজ তার ও পৃথিবীবাসীর মাঝে সম্পর্কের সেতু হয়ে তাঁকে মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রাখে। এই কাজগুলো তাকে পরপারে ধনী করতে থাকে। রাব্বুল আমাদের প্রত্যেককে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সেবা মূলক কাজে ভূমিকা রাখার তাওফিক দান করুন। আমীন।

    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৩ এপ্রিল ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে দশদিক