• শিরোনাম

    হাসপাতালে ৮০ ভাগই ডেঙ্গু রোগী

    | ২৬ জুলাই ২০১৯ | ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 78 বার

    হাসপাতালে ৮০ ভাগই ডেঙ্গু রোগী

    ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু। জ্বর হলেই হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করলে ধরা পড়ছে ডেঙ্গু। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এখন আর তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ভর্তি ৮০ ভাগই ডেঙ্গু রোগী। মিনিটে মিনিটে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। মায়েরা আসছে রুগ্ন শিশুকে কোলে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে। হাসপাতালে একটাও সিট খালি নেই! কী মর্মান্তিক পরিস্থিতি। রোগীর জায়গা না হলে কী হবে অ্যাডিস মশারা ঠিকই রয়েছে হাসপাতালে।

    ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শকে গিয়ে ইতিমধ্যে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হাসি সমাদ্দার (১৮) মারা গেছেন। ডেঙ্গুর এমন ভয়াবহ প্রকোপ নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে লন্ডন সফরে থাকলেও তিনি প্রায় প্রতিদিন টেলিফোনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে পরিস্থিতি জানতে চাচ্ছেন।

    বিশেষ করে রোগীরা যেন সুচিকিৎসা পান সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এদিকে রাজধানীসহ সারা দেশে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগের চিকিত্সায় ওয়ান স্টপ সেন্টার চালু হচ্ছে। এ সেন্টার থেকে ডেঙ্গু রোগীদের প্রাথমিক সেবা প্রদান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জটিল রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ভয়ানক ডেঙ্গু জ্বরের অসহনীয় পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিত্সাসেবা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রোগীদের দিতে হবে না কোন ধরনের ফি।

    এদিকে, কোনো কোনো বেসরকারি হাসপাতাল ডেঙ্গু জ্বর পরীক্ষার নামে প্রয়োজন নেই এমন পরীক্ষাও দিচ্ছে। এভাবে হাসপাতালগুলো ব্যবসা করছে- বেসরকারি হাসপাতালের কয়েকজন চিকিত্সক এমন অভিযোগ করেছেন।

    জানা গেছে, এ বছর অ্যাডিস মশার কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলে। তবে দরিদ্র ও মধ্যবৃত্তি মানুষের মাধ্য আক্রান্তের হার এ বছর বেশি। কর্মক্ষম মানুষের ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।

    আরও পড়ুন : এবার সমন্বিতভাবে মশা মারবে ঢাকার দুই সিটি

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেল্থ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ৫৩৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    এদিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রশাসনিক ভবন ভরে গেছে ডেঙ্গু রোগীতে। হাসপাতালে সিট নেই। রোগীদের ক্যান্টিনের সামনে করিডরে রেখেই চিকিত্সা দিচ্ছেন ডাক্তাররা।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ হাসপাতালগুলোতে ওয়ান স্টপ সেন্টার চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের সুচিকিত্সা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই একই স্থান থেকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে ওয়ান স্টপ সেন্টার চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই এ সেন্টার চালু হবে। তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু রোগের চিকিত্সার ক্ষেত্রে গাইড লাইন সঠিকভাবে অনুসরণ করলেই ঝুঁকি বহুলাংশে কমে যাবে। ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শফি আহমেদ বলেন, এ হাসপাতালে ৭০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিত্সাধীন। ডেঙ্গু রোগীর চাপে অন্য রোগীদের চিকিত্সা বিঘ্নিত হচ্ছে। কিন্তু কিছুই করার নেই। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বহিঃবিভাগে রক্ত পরীক্ষা ফ্রি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মিলন অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন কর্তৃক আয়োজিত একটি বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে ‘ডেঙ্গু জ্বরের বর্তমান সময়ের ভয়াবহতা ও কার্যকরী ব্যবস্থাপনার’ উপর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি বলেছেন, ডেঙ্গু রোগের চিকিত্সায় বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বের যেকোন দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে ফিলিপাইনে প্রায় ৫০০ জন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে গত জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ৭৭৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হলেও ৫৯৩৮ জন ডেঙ্গু রোগীই দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে সেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে গেছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে দেশে মাত্র ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সুতরাং ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। ডেঙ্গু রোগে সুচিকিত্সার সব ধরনের ব্যবস্থাপনা সরকারি হাসপাতালে রয়েছে। তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে মশা মেরে ফেলতে আরো জোড়ালো ভূমিকা রাখতে হবে।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মিডিয়াকে আতঙ্ক ছড়ানোর মতো সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জাহিদ মালেক বলেন, ‘বর্তমানে অ্যাডিস মশা অনেক হেলদি। তাদের প্রজনন ক্ষমতাও বেশি। রোহিঙ্গাদের মতই তাদের প্রজনন ক্ষমতা। যেভাবে রোহিঙ্গা পপুলেশন আমাদের দেশে এসে বেড়েছে, সেভাবেই এই মসকিউটো পপুলেশনও বেড়েছে। আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।’

    সিটি করপোরেশনের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ভালো ওষুধ স্প্রে করেন। যাতে অ্যাডিস মশা না বাড়তে পারে। সেইসঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

    অধিবেশনে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক মো. বিল্লাল আলম ও মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদুল কবির প্রমূখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন। অধিবেশনে দেশে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে বিদ্যমান ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু জ্বরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিষদ আলোচনা করা হয়।

    অ্যাডিস মশা নিধনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। বিশেষ করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার চিত্র ভয়াবহ। রাজধানীর মশা নিধনে দুই সিটি করপোরেশনের ব্যবহার করা ওষুধের সমালোচনা করেছেন হাইকোর্ট। এদিকে ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় ডেঙ্গু নির্মূল অভিযান শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ গতকাল ঢাকা সেনানিবাসস্থ অফির্সাস ক্লাব প্রাঙ্গনে ডেঙ্গু নির্মূল অভিযান-২০১৯ এর উদ্বোধন করেন।

    অ্যাডিস মশা বৃদ্ধির কারণ

    মশা নিয়ে গবেষণা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তার মতে, এবার ফেব্রুয়ারিতে বৃষ্টি হয়েছে। অ্যাডিস মশার ডিম (লার্ভা) ছয় মাস পর্যন্ত শুকনো স্থানে থাকলে বেঁচে থাকতে পারে। এবার আগে বৃষ্টির কারণে ও এখন থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে অ্যাডিস মশার ঘনত্ব বাড়ছে।

    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১৪ জুলাই ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দশদিক