• শিরোনাম

    ৩১ শিশুর ভ্রুণ উদ্ধারের ঘটনায় গাইনি বিভাগের প্রধানসহ বরখাস্ত ২

    | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৭:৫৯ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 303 বার

    ৩১ শিশুর ভ্রুণ উদ্ধারের ঘটনায় গাইনি বিভাগের প্রধানসহ বরখাস্ত ২

    বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ময়লার স্তূপে ৩১টি অপরিণত শিশুর (ফিটাস) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. খুরশীদ জাহান বেগম ও ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ জোৎস্না আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার তাদের বরখাস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোঃ সৈয়দ মাকসুমুল হক। তিনি জানান, অপরিণত শিশুর (ফিটাস) লাশ যা শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেগুলো একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমাধিত করার কথা ছিলো। কিন্তু তা করা না হওয়ায় বিষয়টি ভিন্ন রকম পরিস্থিতিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার তদন্তে সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. জহিরুল হক মানিককে প্রধান করে তিন সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাদের আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির বাকী ২ জন হলেন- প্যাথলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফাইজুল বাশার ও ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ইমতিয়াজ উদ্দিন। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গাইনি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. খুরশীদ জাহান বেগম এবং ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ জোৎস্না আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এর সুপারিশনামা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    এদিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোঃ বাকির হোসেন জানান, সকালে তার কার্যালয়ে কলেজ অধ্যক্ষসহ হাসপাতাল ও কলেজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভা করেন। এরপরপরই তদন্ত কমিটি ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পদক্ষেপ নিতে তিনি (হাসপাতাল পরিচালক) কলেজ অধ্যক্ষকে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়েছেন। চিঠি অনুযায়ী তিনি ব্যবস্থাও নিয়েছেন। এছাড়াও ফিটাসগুলোর ময়নাতদন্তের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যা শেষে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাধিত করা হবে।

    তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া ২৫/৩০ বছর আগের ৩১ অপরিণত শিশুর (ফিটাস) লাশের বেশিরভাগেরই জন্মগত ত্রুটির কারণে অভিভাবকরা এগুলো ফেলে দেন ও তাদের অনুমতি নিয়েই যথাযথ প্রক্রিয়ায় হাসপাতালে এগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য।

    এ বিষয়ে বরখাস্তকৃত গাইনি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. খুরশীদ জাহান বেগম জানান, পোস্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স চালুর জন্য গাইনি বিভাগের একটি কক্ষ পরিষ্কার করে লাইব্রেরি বানানোর কথা। সে অনুযায়ী স্টোর হিসেবে পরিচিত কক্ষটি পরিষ্কার করা হচ্ছিলো। কিন্তু পরিষ্কারের আগে পরিদর্শনের সময় এগুলো দেখা যায়নি। কারণ তখন এগুলো বস্তাবন্দি অবস্থায় অকেজো মালামালের মধ্যে ছিলো।

    তিনি জানান, ঘটনার আগে তিনি এগুলো পরিষ্কার করার জন্য নার্সিং ইনচার্জ জোৎস্না আক্তারকে বলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর তিনি জানতে পারেন যে কিছু অরগান পাওয়া গেছে। এগুলো কোনো নবজাতকের লাশ নয়। এগুলো অপরিণত ও জন্মগত ত্রুটিযুক্ত শিশুর (ফিটাস) ভ্রুণ। আবার এরমধ্যে টিউমারসহ মানবদেহের আরো কিছু অরগান রয়েছে।

    নির্ধারিত নিয়মে সমাধিত করা উচিত ছিলো বলে জানিয়ে তিনি বলেন, গত ৬ মাস আগে আমি গাইনি ওয়ার্ডের দায়িত্ব নেই। কিন্তু এগুলোর বিষয়ে আদৌ আমরা কেউ জানতাম না, আর এখন মেডিক্যালের বর্তমান শিক্ষা কারিকুলামে এগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই। এখন আমরা ছবিতেই সবকিছু করে থাকি। তবে একসময় এভাবে বিভিন্ন অরগান ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষরণ করা হতো, তখন আমরাই ছাত্র ছিলাম।

    মন্তব্য করুন

    মন্তব্য

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০  
  • ফেসবুকে দশদিক