• শিরোনাম

    চা-শিঙাড়া নয়, ভাবুন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে

    | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৮:০৪ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 2495 বার

    চা-শিঙাড়া নয়, ভাবুন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসার নাম। প্রবাসে সারা দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে যখন দেশের ও দেশে ফেলে আসা সুন্দর মুহূর্তগুলোর কথা মনে হয়, তখন আপনা থেকেই হৃদয়পটে ভেসে ওঠে প্রিয় ক্যাম্পাস, প্রিয় রোকেয়া হল আর সেখানে কাটানো হাজারো স্মৃতি। হাজারো অপূর্ণতা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মানে আমার কাছে জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর নিজেকে গড়ার প্রতিষ্ঠান। হাজার তরুণের স্বপ্ন দেখার সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ।

    সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে টিএসসি ক্যাফেটেরিয়া নিয়ে উপাচার্য মহোদয়ের একটি বক্তব্য শুনলাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া উপাচার্য মহোদয়ের আলোচিত বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্যের বর্ণনায় উঠে এসেছে দশ টাকার চা, শিঙাড়া, চপ আর সমুচার কথা। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে এই ক্যাম্পাস। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও নব্বইয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সব আন্দোলন সংগ্রামে রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য অবদান ও গৌরবময় ইতিহাস। এ ক্যাম্পাস মুখরিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, সত্যেন্দ্রনাথ বসু (সত্যেন বোস), হর প্রসাদ শাস্ত্রী, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুনীর চৌধুরী, বুদ্ধদেব বসু, আনোয়ার পাশা, আনিসুজ্জামান, আহমেদ ছফা, হ‌ুমায়ূন আহমেদ, হুমায়ুন আজাদসহ দেশবরেণ্য অসংখ্য রাজনীতিক ও জ্ঞানীগুণী মনীষীর পদচারণে।

    মাইঞ্জ ইউনিভার্সিটির সামনে লেখিকা
    একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বের কারণ যে চা, শিঙাড়া, সমুচা বা চপ নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিষ্কার, গবেষণা, অর্জন ও আন্তর্জাতিক মান। তা হয়তো বর্তমান উপাচার্য মহোদয় তখন ভুলে গিয়েছিলেন। ১০ টাকায় এককাপ চা, একটি সমুচা, একটি শিঙাড়া ও একটি চপ হয়তো দুনিয়ার আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই পাওয়া যায় না। তবে ৩-৪ ইউরো খরচ করলে জার্মানির যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানটিনে একজন শিক্ষার্থী পেট ভরে খেতে পারেন, যা বাইরে খেতে ক্ষেত্র বিশেষে ২০-২৫ ইউরো লাগে। সেমিস্টার টিকিট বা স্টুডেন্ট আইডি কার্ড দিয়ে একজন শিক্ষার্থী জার্মানির একটা পুরো স্টেট (কোথাও একাধিক) বাস-ট্রেন সবকিছুতে ঘুরে বেড়াতে পারেন। এ ছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্বল্প খরচে রয়েছে হেলথ ইনস্যুরেন্সের সুযোগসহ আর কত কী। সেসব না হয় না বললাম।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চা, শিঙাড়া, চপ আর সমুচার মাঝে যে কত আবেগ, কত ভালোবাসা আর কত স্মৃতি জড়িয়ে থাকে তা শুধু একজন ঢাবিয়ানই জানেন। আর এই আবেগ যখন হাসির খোরাক হয় তখন এর থেকে কষ্টের আর কিছু নেই।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে মনে হয় আরও সতর্ক হওয়া উচিত। একজন সাবেক ঢাবিয়ান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, চা, শিঙাড়া, সমুচা বা চপের দাম নয়, দয়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে ভাবুন। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতা করার মতো করে গড়ে তুলতে নজর দিন প্লিজ।

    তামান্না ফেরদৌস: সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী, জোহানেস গুটেনবার্গ ইউনিভার্সিটি, মাইঞ্জ, জার্মানি।

    Facebook Comments Box

    আর্কাইভ

    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০ 
  • ফেসবুকে দশদিক