এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থবিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, চলমান ঋণ কর্মসূচির পাশাপাশি আইএমএফের কাছ থেকে অতিরিক্ত আর ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের কাছেও বাজেট সহায়তার পাশাপাশি ঋণ চাওয়া হয়েছে। গত রবিবার ঢাকা সফররত বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাটের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি বৈঠকও করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, নতুন ঋণ সহায়তা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বাজেটে বিশ্বব্যাংকের সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিষয়েও তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন। তাদেরকে সে বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভায় আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী। অবশ্য সে বৈঠক ঋণের কিস্তির ছাড়ের বিষয়ে ইতিবাচক তেমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং কিস্তি স্থগিত করে দিয়েছে সম্মেলন চলাকালীন। এই অর্থ বাজেটের আগে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সংস্থাটি বলেছে জুনের মাঝামাঝিতে তাদের একটি প্রতিনিধিদল আবারও ঢাকা সফরে আসবেন। সে সময় ঋণের শর্ত পরিপালন পরিস্থিতি, সামষ্টিক অর্থনীতি পর্যালোচনা ও চলতি এবং নতুন বাজেটে সামগ্রিক ভর্তুকির মাত্রা পর্যালোচনা করা হবে। এ সময় প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক ঢাকার সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাজেটে ঋণ কর্মসূচিতে থাকা সংস্কার প্রস্তাবগুলোর কতটা প্রতিফলন থাকে হয়তো সেটা পর্যালোচনা করতেই আইএমএফ ঢাকায় আসতে পারে। এ ছাড়া সংস্থাটির সঙ্গে তো সারা বছর ঋণ কর্মসূচি চলমান থাকে। ব্যাংক রেজল্যুশন নিয়ে তো তাদের অবজারভেশন বেশ পুরোনো। সে বিষয়ে হয়তো তারা আরও খোঁজখবর নেবে।
এদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি সব ধরনের জ্বালানি তেলের বাড়ানো হয়েছে। অবশ্য আইএমএফ আরও আগে থেকে ও সরকারের ভর্তুকি কমানো, রাজস্ব খাতে সংস্কার, ব্যাংক খাতে সংস্কারের বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আসছিল। পাশাপাশি সরকার রাজস্ব কাঠামোর সংস্কার নিয়েও কথা বলে আসছে আইএমএফ। এর আগে আইএমএফের সঙ্গে ২০২৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই করেছিল বাংলাদেশ। যার পাঁচটি কিস্তি পেয়েছে বাংলাদেশ।