• শিরোনাম

    কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের সহায়তায় জাপানের ৬.৭ মিলিয়ন ডলার অনুদান

    | ০৬ মার্চ ২০২৬ | ১১:৩৮ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 50 বার

    কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের সহায়তায় জাপানের ৬.৭ মিলিয়ন ডলার অনুদান

    কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় জাপান সরকার জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি World Food Programme (ডব্লিউএফপি)-কে ৬.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১.০৫ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন) অনুদান দিয়েছে। ঢাকায় ডব্লিউএফপি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    এই অনুদানের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পুষ্টি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

    এছাড়া এই তহবিলের একটি অংশ কক্সবাজারের স্থানীয় কৃষকদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র কৃষকদের জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষি অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং স্থানীয় বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে “অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার” মডেলের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য একত্রিত করে সহজে বাজারে সরবরাহ করতে পারবেন। এর ফলে তাজা সবজি, ডিম ও চালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রোহিঙ্গা পরিবারের কাছেও পৌঁছানো সহজ হবে।

    বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, জাপান বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি উন্নয়ন এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে জাপান কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাজারে প্রবেশের সীমাবদ্ধতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় বাংলাদেশিদের সহায়তা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ডব্লিউএফপির খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রতি মাসে খাদ্য ভাউচার পেয়ে থাকে, যার মাধ্যমে তারা চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং তাজা সবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করতে পারে। পাশাপাশি পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী মা এবং শিশুদের জন্য বিশেষ পুষ্টিপণ্য, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টি শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

    এদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এই অর্থ দিয়ে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি অবকাঠামো মেরামত করা হবে, যাতে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া অ্যাগ্রিগেশন সেন্টারগুলোতে কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা স্থাপন করা হবে, যা স্থানীয় কৃষিপণ্যের গুণগত মান ও মূল্য বৃদ্ধি করবে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শুরু থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার নতুন রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। এতে সেখানে মোট রোহিঙ্গা জনসংখ্যা প্রায় ১২ লাখে পৌঁছেছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় মানবিক কার্যক্রম বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আগামী এপ্রিল ২০২৬ থেকে ডব্লিউএফপির খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখতে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

    বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পার্চমেন্ট বলেন, কক্সবাজারে মানবিক প্রয়োজন এখনও অত্যন্ত বেশি। এই পরিস্থিতিতে জাপানের এই সহায়তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে ধারাবাহিকভাবে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং অন্যান্য দাতাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে জাপান ডব্লিউএফপি ও অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সহায়তায় ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৯ এপ্রিল ২০২০

    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    ১৪ জুলাই ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০ 
  • ফেসবুকে দশদিক