• শিরোনাম

    কর্মীদের বেতন দিতে ডেসটিনির অ্যাকাউন্ট খোলার দাবি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান রফিকুল আমীন

    | ২০ মে ২০২৬ | ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 20 বার

    কর্মীদের বেতন দিতে ডেসটিনির অ্যাকাউন্ট খোলার দাবি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান রফিকুল আমীন

    পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। ভিড় বাড়ছে পশুর হাট থেকে শুরু করে শপিংমলগুলোতে। তবে ভিন্ন চিত্র ডেসটিনি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। কয়েক বছর ধরে নিয়মিত বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন হাজারো কর্মী। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের বেতন পরিশোধের জন্য গ্রুপের অবরুদ্ধ ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো সচল করতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ডেসটিনি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    ২০১২ সালে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করে। এরপর আদালতের নির্দেশে গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করা হয়। অ্যাকাউন্টে কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের মতো অর্থ থাকলেও আইনি জটিলতায় তা উত্তোলন করা যাচ্ছে না।

    বিগত ঈদগুলোতেও বেতন বা উৎসব বোনাস পাননি ডেসটিনির কর্মীরা। সন্তানকে নতুন পোশাক কিনে দিতে পারেননি অনেকে। ঈদের দিনটিতেও একটু ভালো খাবারের আয়োজন ছিল না বহু পরিবারে। হতাশা গ্রাস করেছে দেনার দায়ে জর্জরিত কর্মীদের।

    একজন শ্রম আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, এ ধরনের দীর্ঘসূত্রিতায় সাধারণ কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক পরিবার ইতোমধ্যেই ভেঙে গেছে, সন্তানদের শিক্ষা বন্ধ হয়েছে, চিকিৎসার অভাবে রোগ বেড়েছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং একটি বড় মানবিক সংকট।

    দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪৩ লাখ পরিবেশক। আটকে আছে লাখ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকের অর্থ।

    বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহীন বলেন, ‘শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা তাদের মৌলিক অধিকার। আইনি প্রক্রিয়া যত দিনই চলুক, নিরপরাধ মানুষের জীবন-জীবিকা ধ্বংস করা উচিত নয়। সরকার ও আদালত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই জটিলতা সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে পারে।’

    মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলার তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও মানবিক ও জরুরি কারণে আদালতের বিশেষ অনুমতি বা আদেশের মাধ্যমে অবরুদ্ধ অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ছাড়ের নজির দেশে রয়েছে।

    ১২ বছর ৩ মাস ৫ দিন কারাভোগের পর মুক্তি পেলেও ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীন এখনও অবরুদ্ধ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সচল করতে পারছেন না। হাজার হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদও মুক্ত করা যাচ্ছে না।তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৩ বছরেও ডেসটিনি গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিনিয়োগকারীদের দুঃসহ জীবন শেষ হয়নি। এখন পর্যন্ত তারা চাতক পাখির মতো ভাগ্যের দিকে তাকিয়ে আছে, কবে তাদের সমস্যার সমাধান হবে।’

    এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ডেসটিনির সব সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব খুলে দিয়ে ব্যবসা সচল করার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। এবার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান রফিকুল আমীন।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমার চাওয়া, উনি অন্তত নিজে ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করুন। দীর্ঘ সময়ের যন্ত্রণাদায়ক জীবন থেকে মানুষকে যেন তিনি মুক্তি দেন। কারণ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এখানে কোনো দোষ নেই। তারা স্বনির্ভর হয়ে ডেসটিনিতে তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ ফিরে পেতে চান।’

    ড. রফিকুল আমীন বলেন, ‘দোষ করলে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী করতে পারেন। কিন্তু তাদের সাজা কেন সাধারণ কর্মচারী ও বিনিয়োগকারীরা ভোগ করবে? তাই মানবিক দৃষ্টিতে এই ঈদে অন্তত তাদের বেতন ও বিনিয়োগের টাকা যেন তারা ফেরত নিতে পারে। প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি ব্যাংক হিসাব উন্মুক্ত করে দিলে অন্তত ঈদের আগে তাদের বেতন দেওয়া সম্ভব।’

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৯ এপ্রিল ২০২০

    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

    ১৪ জুলাই ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০ 
  • ফেসবুকে দশদিক