| ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ২:৩৯ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 341 বার
আফগানিস্তানে চলমান সংকটের জন্য দেশটির রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও সাধারণ নাগরিকরা সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনিকে দায়ী
করছেন। তারা বলছেন, ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুলের প্রান্তে তালেবান যোদ্ধাদের অবস্থান নেয়ার পর গনি আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কারণেই দেশটিতে চলমান সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
রোববার আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
আফগান রাজনীতিবিদরা বলছেন, গনি যদি পালিয়ে না গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতেন, তবে আফগান সামরিক বাহিনীও ভেঙে পড়তো না, আন্তর্জাতিক সহায়তাও বন্ধ হতো না এবং হাজার হাজার শিক্ষিত আফগান তরুণ দেশ ছাড়তো না।
আফগান রাজনৈতিক দল হিজবে ইসলামির নেতা হুমায়ুন জরির বলেন, ‘যদি আশরাফ গনি আন্তঃআফগান সংলাপের মাধ্যমে তালেবানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতেন, তবে সবকিছুই ঠিকমতো চলতো এবং আজকের পরিস্থিতি আরো ভালো থাকতো।’
ন্যাশনাল সলিডারিটি মুভমেন্ট অব আফগানিস্তানের নেতা সাইয়েদ ইসহাক গিলানি বলেন, ‘স্বীকৃতির সমস্যা, আন্তর্জাতিক সহায়তা বন্ধ হওয়া এবং আফগানিস্তানের অনিশ্চয়তাসহ সব সংকটের জন্য দায় গনি ও তার দলের পালিয়ে যাওয়ার ওপরই বর্তায়।’
সাবেক আফগান কূটনীতিক শুকরিয়া বারাকজাই বলেন, ‘গনির পালিয়ে যাওয়ায় তিন লাখ সৈন্যের আফগান সামরিক বাহিনী ভেঙে পড়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়, হাজার হাজার শিক্ষিত তরুণ দেশ ছাড়ে এবং দেশ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়ে যায়।’
অপরদিকে সাধারণ আফগানরাও দেশের সংকটের জন্য গনিকে দায়ী করেন। তাদের মতে, শান্তির সুযোগ থাকলেও গনি তা নষ্ট করেছেন।
কাবুলের বাসিন্দা পারভেজ বলেন, ‘গনির পালিয়ে যাওয়ায় সব শিক্ষিত ও প্রাজ্ঞ লোকজন আফগানিস্তান ত্যাগ করে। পালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে গনি শান্তি প্রতিষ্ঠার সব সম্ভাবনা নষ্ট করেছেন।’
এদিকে তালেবান প্রশাসনের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন কালচারাল কমিশনের সদস্য নুর মোহাম্মদ মোতাওয়াক্কিল জানান, তালেবান শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর আশা করছিলো। কিন্তু গনির পালিয়ে যাওয়ায় সবকিছু নষ্ট হয়ে যায়।
তিনি বলেন, তালেবান শক্তির মাধ্যমে ক্ষমতা চায়নি এবং তারা চায়নি আফগান সামরিক বাহিনী ভেঙে পড়ুক।
মোতাওয়াক্কিল বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আশরাফ গনি সমস্যা কয়েক গুণ বাড়ান। আমরা আশা করছি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের সাথে একত্রে কাজ করবে। ইসলামি আমিরাত সারাবিশ্বের সাথে সুসম্পর্ক চায়।’
২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার জেরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ হামলার জন্য আফগানিস্তানে আশ্রয়ে থাকা আলকায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করেন। ওই সময় আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের কাছে ওসামা বিন লাদেনকে মার্কিন প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়ার দাবি জানান বুশ।
তালেবান সরকার ওসামা বিন লাদেনকে তুলে দেয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার সাথে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে মার্কিনিদের কাছে প্রমাণ চায়। প্রমাণ ছাড়া তারা ওসামা বিন লাদেনকে মার্কিন প্রশাসনের কাছে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
বুশ প্রশাসন ও তালেবানের মধ্যে বিরোধের জেরে ২০০১ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানে আগ্রাসন শুরু করে মার্কিন বাহিনী। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রসজ্জ্বিত মার্কিন সৈন্যদের হামলায় তালেবান সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়।
তবে একটানা দুই দশক যুদ্ধ চলতে থাকে দেশটিতে।
এরইমধ্যে আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো জোটের সদস্য দেশগুলোও যুক্ত হয়। মার্কিনিদের সমর্থনে নতুন প্রশাসন ও সরকার ব্যবস্থা গড়ে উঠে দেশটিতে।
২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন সৈন্যদের এক ঝটিকা অভিযানে নিহত হন ওসামা বিন লাদেন। ২০১৩ সালে অজ্ঞাতবাসে তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরেরও মৃত্যু হয়।
তা স্বত্ত্বেও তালেবান যোদ্ধারা আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনীর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখে।
দীর্ঘ দুই দশক আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বের বহুজাতিক বাহিনীর দখলের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। এর বিপরীতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে তালেবান সম্মত হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণা অনুসারে ৩১ আগস্ট আফগানিস্তান থেকে বহুজাতিক বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ডেডলাইন থাকলেও ৩০ আগস্ট সম্পূর্ণ সৈন্য প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়।
মার্কিনিদের সাথে চুক্তি অনুসারে ক্ষমতাসীন থাকা মার্কিন সমর্থনপুষ্ট আফগান সরকারের সমঝোতার জন্য তালেবান চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। তালেবানের অভিযোগ, আশরাফ গনির নেতৃত্বাধীন আফগান সরকার দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের আহ্বানে সাড়া দেয়নি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মে মাসে বহুজাতিক বাহিনীর প্রত্যাহারের মধ্যেই পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানো শুরু করে তালেবান।
৬ আগস্ট প্রথম প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় নিমরোজ প্রদেশের রাজধানী যারানজের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। যারানজ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ১০ দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় রাজধানী কাবুলে পৌঁছে যায় তালেবান যোদ্ধারা। তালেবানের অগ্রসর হওয়ায় ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির কাবুল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জেরে আফগান প্রশাসন ভেঙে পড়লে ১৫ আগস্ট কাবুলে প্রবেশ করে তালেবান যোদ্ধারা।
তবে কাবুলের উত্তরের দুর্গম পাঞ্জশির প্রদেশ শুধু তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে গিয়েছিলো। আফগানিস্তানে রুশ আগ্রাসন প্রতিরোধ যুদ্ধের কিংবদন্তি যোদ্ধা আহমদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমদ মাসুদের নেতৃত্বে তালেবানবিরোধী বিদ্রোহী যোদ্ধারা এই উপত্যকায় অবস্থান নিয়েছিলো।
৬ সেপ্টেম্বর পাঞ্জশির নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পুরো আফগানিস্তানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তালেবান। এর পর ৭ সেপ্টেম্বর নতুন আফগান সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় দলটি।
সূত্র : তোলো নিউজ
| শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | |||
| ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ |
| ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ |
| ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ |
| ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ||