| ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 519 বার
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছয় পরাশক্তি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে দেশটির পরমাণু চুক্তিতে নতুন করে কোনো আলোচনা বা নতুন কোনো পক্ষের যোগদান প্রত্যাখ্যান করেছে। এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রন নতুন করে পরমাণু চুক্তির বিষয়ে সৌদি আরবকে যুক্ত করে আলোচনার বিষয়ে প্রস্তাব করার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রতিক্রিয়া জানালো ইরান।
শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইদ খতিবজাদেহের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘পরমাণু চুক্তি একটি বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক চুক্তি যা জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২২৩১ প্রস্তাব অনুসারে অনুমোদিত হয়েছে। এটি নতুন করে আলোচনার যোগ্য নয় এবং এর পক্ষগুলো স্পষ্ট ও অপরিবর্তনীয়।’
এর আগে শুক্রবার আল আরাবিয়া টেলিভিশনের কাছে এক সাক্ষাতকারে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন বলেন, ২০১৫ সালে চুক্তিতে বাদ পরা ওই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোকে আলোচনায় সংযুক্ত করা প্রয়োজন।
সৌদি আরব ও অন্য দেশগুলোকে আলোচনায় যুক্ত করে ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি কঠোরভাবে ‘নিয়ন্ত্রণ’ করার প্রস্তাব দেন ম্যাকরন।
খতিবজাদেহ ম্যাকরনকে ’আত্মসংযমের’ পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘যদি ফরাসি কর্মকর্তারা পারস্য উপসাগরের আরব দেশগুলোর সাথে তাদের বিপুল অস্ত্র বাণিজ্যের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হতেন, তবে তারা তাদের নীতি পুনর্বিবেচনা করতেন।’
তিনি বলেন, ‘অন্য পশ্চিমা অস্ত্রের সাথে সাথে ফরাসি অস্ত্র শুধু হাজার হাজার ইয়েমেনির গণহত্যার কারণ হয়নি, সাথে সাথে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করে। কিন্তু ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে সরিয়ে আনেন ও ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ চাপিয়ে দেন। চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান নিজেদের চুক্তি থেকে সরিয়ে নেয়।
এ দিকে জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর চুক্তি পূর্ণভাবে মেনে চলার শর্তে ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি নতুন করে চালুর কথা ঘোষণা দেন।
কিন্তু ইরান বলছে, দেশটির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেয়া পর্যন্ত তারা চুক্তিতে ফিরে যাবে না।
সৌদি আরব ও তার মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোরও এই ধরনের আলোচনায় সংযুক্ত হওয়া উচিত। ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এর বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থনের বিষয়েও এই আলোচনায় আসা উচিত বলে বক্তব্য সৌদি আরব ও তার মিত্রদের।
ইয়েমেনে ইরানের সাথে প্রক্সি-যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া সৌদি আরব ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপের’ পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে।
জানুয়ারির শুরুতে ইরান তার ভূগর্ভস্থ ফরডো নিউক্লিয়ার প্লান্টে ২০ ভাগ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজ শুরু করেছে, যা চুক্তির আগে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধের মাত্রা ছিল।
ইরানের পার্লামেন্টে ডিসেম্বরে আইন পাস করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র দুই মাসের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করলে সরকার পরমাণু ইস্যুতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।
সূত্র : আলজাজিরা
| শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | |||
| ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ |
| ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ |
| ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ |
| ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ||