• শিরোনাম

    মানব চরিত্রে সততার গুণ

    মুহাম্মদ মিজানুর রহমান | ২৯ আগস্ট ২০২১ | ৮:২৮ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 756 বার

    মানব চরিত্রে সততার গুণ

    এমন কিছু গুণ রয়েছে যা মানব চরিত্রকে পূর্ণতা দান করে। আর ঈমানী শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে ব্যক্তি হয় বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। সে রকম একটি গুণ হলো সততা, যা মুমিনের সম্মানকে আল্লাহর কাছে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। শুধু যে আখিরাতে তা নয়, দুনিয়াতেও। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা সমগ্র মানবসত্তাকে এই বিশেষ গুণটি অর্জনের জোর তাগিদ দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো আর সত্যবাদীদের সাথে থাকো।’ (সূরা আত তাওবা, আয়াত-১১৯)
    এ কারণে অনেক মহৎ কাজের সাথে জড়িয়ে আছে সততার গুণ। হাদিসে এই বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়ত ঠিক রাখে আর সততার সাথে আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য লাভের দোয়া করে, আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন… যদিও সে বিছানায় শুয়ে মৃত্যুবরণ করে।’ (মুসলিম) অন্য এক হাদিসে বলা হয়েছে ‘যে ব্যক্তি সততা ও আন্তরিকতার সাথে শহীদের মৃত্যু লাভ করতে চায়, সে ব্যক্তি শহীদ না হলেও শহীদের মর্যাদা তাকে দেয়া হয়।’ (মুসলিম)
    বিশ^নবী হজরত মুহাম্মদ সা: নিজে কখনো মিথ্যা কথা বলেননি। সবর্দা সত্য কথা বলেছেন। মানুষের আমানত রক্ষা করেছেন। কোনো মানুষকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি। যার চরিত্রের সার্টিফিকেট স্বয়ং আল্লাহ পাক দিয়েছেন। সেই রাসূল সা: বলেছেন, ‘তোমরা সততা ও সত্যবাদিতার পথ অবলন্বন করো। কেননা তা মানুষকে পুণ্যের পথে পরিচালিত করে। আর পুণ্য মানুষকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। কোনো ব্যক্তি যখন সত্য কথা বলে আর সততা ও সত্যবাদিতার গুণ অর্জন করে তখন আল্লাহর কাছে সে সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। আর তোমরা মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, মিথ্যা মানুষকে পাপের পথে পরিচালিত করে। আর পাপ মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। ব্যক্তি যখন মিথ্যা বলে আর মিথ্যায় অভ্যস্ত হয়ে যায় তখন আল্লাহর কাছে তার নাম মিথ্যাবাদী হিসেবেই লিপিবদ্ধ হয়।’
    যারা সত্য কথা বলে। সত্যের পথে চলে তাদের মর্যাদা অনেক। পবিত্র কুরআনে যেসব নেয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের কথা বলা হয়েছে তাদের মধ্যে একটি শ্রেণীর মানুষ হলো সিদ্দিকিন। যাদের মর্যাদা আম্বিয়ায়ে কেরাম আ:-এর পরেই উল্লেখ করা হয়েছে। আর উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এই গুণটি হাসিল করার উত্তম দৃষ্টান্ত হলেন বিশ^নবী হজরত মুহাম্মদ সা:। আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলেছেন, ‘রাসূলের জীবনে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ তাই প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের এই গুণটি অর্জনের বাসনা থাকা প্রয়োজন। যা তাকে মর্যাদার উচ্চ মাকামে পৌঁছে দেবে।
    আর এটি তখনই সম্ভব হবে যখন মানুষ রাসূল প্রেমে আশিক হয়ে আল্লাহর মহব্বত ইশকে ধারণ করবে। তখন বান্দা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য আকুল হয়ে উঠবে। দ্বীনের প্রতি হৃদয়ের আকর্ষণ বেড়ে যাবে। যার চূড়ান্ত পরিণতি আল্লাহর দর্শন। যা মুমিন বান্দা পরকালে লাভ করবে। এর চেয়ে বড় উপহার তার জন্য আর কিছুই থাকবে না। যখন মানুষ সততা ও সত্যবাদিতায় অভ্যস্ত হয়ে যায়, সে যাবতীয় পাপাচার থেকে ফিরে আসে। কারণ সে সততা ও সত্যবাদিতাকে জান্নাত লাভের অন্যতম উপায় মনে করে। আর অবারিত সওয়াব লাভ করতে চায়। সততার সেই উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে যাওয়ার জন্য নিয়তে সে আমূল পরিবর্তন করে। যেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার সততার কারণে তার মৃত্যুকে শহীদী মৃত্যু হিসেবে কবুল করে নেন।
    সত্যের বিপরীত হলো মিথ্যা। যা মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। মানুষের মর্যাদাকে অনেক নিচে নামিয়ে দেয়। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘মিথ্যা সব পাপের মূল’। এমনকি মুনাফিকের যে নিদর্শনগুলোর কথা রয়েছে তার মধ্যে একটি হলো মিথ্যা কথা বলা। এই মুনাফিককে তার কৃত পাপের শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের সর্বনি¤œ স্তরে নিক্ষেপ করা হবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মিথ্যাবাদী ও অকৃতজ্ঞ লোককে কখনো হেদায়েত দান করেন না।’ (সূরা জুমার, আয়াত-৩) সুতরাং মিথ্যাবাদীদের প্রতি আল্লাহর লানত বর্ষিত হয়। এরা কখনোই সফলকাম হতে পারবে না।
    মানুষ কারণে-অকারণে সত্যকে ছেড়ে দিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। নিজের পরিণতির কথা মোটেই চিন্তা করছে না। অথচ তার এই মিথ্যার দ্বারা কেউ প্রতারিত হচ্ছে। কারো হক সে নষ্ট করে দিচ্ছে। অথচ মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: ইরশাদ করেছেন, ‘মিথ্যা একটি বড় বিশ্বাসঘাতকতা। তুমি যে ভাইয়ের সাথে কথা বলছÑ সে ভাই তোমাকে বিশ্বাস করে। অথচ তুমি তাকে মিথ্যা বলছ।’ (আততারগিব, তৃতীয় খণ্ড)
    মানুষ নিজেকে একটু লাভবান করার জন্য সত্যকে পরিহার করে মিথ্যার আশ্রয় নেয়। অথচ সে মিথ্যায় মানুষের কোনো কল্যাণ নেই, আছে ধ্বংস। ব্যবসায়-বাণিজ্যসহ যাবতীয় লেনদেনে মানুষ যদি সততার পরিচয় দেয় তাতে আল্লাহ বরকত বাড়িয়ে দেন। মহানবী সা: ইরশাদ করেন, ‘যদি ক্রেতা-বিক্রেতা সত্য কথা বলে এবং মালের ভালো-মন্দ প্রকাশ করে দেয়, তাহলে তাদের লেনদেন আল্লাহ বরকতময় করেন। আর যদি উভয়ে মিথ্যা বলে এবং পণ্যের দোষত্রুটি আড়াল করে তাহলে এ লেনদেন থেকে আল্লাহর বরকত উঠিয়ে নেয়া হয়।’ (মুসলিম) মিথ্যাবাদীদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি-কিয়ামতের ময়দানে এসব মিথ্যাবাদীর পক্ষে আল্লাহর রাসূল সা: কখনো সুপারিশ করবেন না। তারা নিজেদের কারণে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
    লেখক : সাহিত্যিক ও গবেষক

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ২৪ এপ্রিল ২০২০

    ০৩ এপ্রিল ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০ 
  • ফেসবুকে দশদিক