• শিরোনাম

    জাপানে মানবাধিকার প্রবন্ধে শীর্ষ পুরস্কার জিতেছেন বাংলাদেশি শিশু সাদ আব্দুল্লাহ আয়ান

    | ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 245 বার

    জাপানে মানবাধিকার প্রবন্ধে শীর্ষ পুরস্কার জিতেছেন বাংলাদেশি শিশু সাদ আব্দুল্লাহ আয়ান

    জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি শিশু শিক্ষার্থী সাদ আব্দুল্লাহ আয়ান জাপানের মর্যাদাপূর্ণ “সাইতামা সিটি হিউম্যান রাইটস এসেই কম্পিটিশন ২০২৫”-এ প্রথম স্থান অর্জন করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের নগরব্যাপী প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে এই কৃতিত্ব অর্জন করা সত্যিই বিরল সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    প্রতিযোগিতাটি প্রতিবছর সাইতামা সিটি বোর্ড অব এডুকেশন আয়োজন করে। এর মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবাধিকার সচেতনতা সৃষ্টি, বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মানবোধ এবং ন্যায় ও সমতার মূল্যবোধ জাগ্রত করা। এই প্রতিযোগিতা সাইতামা অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক ও সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।

    সাদ আব্দুল্লাহ আয়ান জন্মগ্রহণ করে ডিসেম্বর ২০১৭ সালে বাংলাদেশে। সে বর্তমানে জাপানের সাইতামা শহরের ওকুবো হিগাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ২৮ নভেম্বর ২০২৩ সালে বাবা-মার সঙ্গে জাপানে আসে, যখন তার জাপানি ভাষার কোনো পূর্বজ্ঞান ছিল না। মাত্র দেড় বছরেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়ে একটি পুরস্কারজয়ী প্রবন্ধ লেখার মতো দক্ষতা অর্জন করা সত্যিই প্রশংসনীয়।

    তার প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল
    (কুনি ওয়া কানকেই নাই – “দেশ কোনো বিষয় নয়”)
    এই লেখায় আয়ান অত্যন্ত পরিপক্বতার সঙ্গে তুলে ধরে যে মানুষের মূল্য নির্ধারণে জাতীয়তা কোনো মানদণ্ড হতে পারে না; বরং প্রত্যেক মানুষ জন্মগতভাবে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। তার লেখায় মানবিক বোধ, সহমর্মিতা এবং বৈষম্যবিরোধী মনোভাব সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

    ৩০ নভেম্বর সাইতামা শহরের ওমিয়া লাইফলং লার্নিং সেন্টার-এ আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে শিক্ষাবোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আয়ানের হাতে তার পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

    এই অর্জনে গর্বিত তার বিদ্যালয় ওকুবো হিগাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কারণ প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো শিক্ষার্থী এতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করলো। একই সঙ্গে জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও ব্যাপক আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।

    আয়ানের বাবা মো. সোহেল রানা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে মেক্সট স্কলারশিপে সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত। তার মা উম্মে সালমা শীলা। তারা সন্তানের এই সফলতার জন্য বিদ্যালয় ও সাইতামা সিটি এডুকেশন বোর্ডের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    সাদ আব্দুল্লাহ আয়ানের এই অর্জন প্রবাসে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিশুদের সম্ভাবনার এক অনন্য উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৫ জানুয়ারি ২০২০

    আর্কাইভ

    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০ 
  • ফেসবুকে দশদিক