| ০৬ জানুয়ারি ২০২১ | ৮:০৯ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 314 বার
জাপানের করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি
১। জাপানে সংক্রমণ এবং মৃতের রেকর্ড প্রতি সপ্তাহেই নতুন করে লিখতে হচ্ছে। আজ টোকিওতে ১৫৯১ জন (বিকেল ৩টা পর্যন্ত), এর মধ্যে সিরিয়াস রোগীর সংখ্যা ১১৩ যাদের মধ্যে অনেকেই হয়ত ফিরে আসতে পারবে না।
২। গতকাল টোকিও তে করোনায় আক্রান্ত তিনজন রোগী এ্যাম্বুলেন্স করে হসপিটালে নেয়ার পথে মারা যায়, অর্থাৎ কিছু কিছু রোগীর অবস্থা খুব দ্রুতই খারাপ হচ্ছে এবং চিকিৎসা শুরুর করার আগেই বিদায় নিচ্ছে।
৩। যেহেতু জাপানে পিসিআর টেস্টের সংখ্যা সীমিত তাই এই মুহূর্তে অনেক রোগী ৪-৫ দিন অপেক্ষা করে টেস্ট করার আগেই মারা যাচ্ছে।
৪। আগামী শনিবার থেকে ১ মাসের জন্য টোকিও, চিবা, সাইতামা, কানাগাওয়া তে জরুরী অবস্থা জারির প্রস্ততি নিচ্ছে জাপান সরকার, যা পরবর্তীতে অন্যান্য এরিয়াও জরুরী অবস্থার আওতাভুক্ত হতে পারে। আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী সুগা সান জরুরী অবস্থার একটা গাইড লাইন ঘোষনা করবে, অর্থাৎ জরুরী অবস্থায় কি কি বন্ধ থাকবে আর কি কি খোলা থাকবে। তবে এখন পর্যন্ত স্কুল/কলেজ খোলা রাখার সিদ্ধান্তের কথা শুনা যাচ্ছে, এর কারন হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা প্রাধান্য পেয়েছে। ডে-কেয়ারে অনেক বাবা মা তাদের সন্তান কে রেখে সেবা খাতে (হসপিটাল, ক্লিনিক, ওয়ার্ড অফিস…) চাকুরী করছেন বিধায় ডে-কেয়ার খোলা রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্তের কথা শুনা যাচ্ছে। তবে সেবা খাত ব্যতীত অন্য সকল অফিস কে TELEWORK এর জন্য অনুরুধ করা হতে পারে।
কতটুকু সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার
এটা সবাই জানি, তারপরও একটু স্মরণ করিয়ে দেয়া
১। সমস্ত ঘরোয়া পার্টি/দাওয়াত বাতিল করা, ইনডোর গেইম, পারটি, সভা থেকে দুরে থাকা
২। প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে না যাওয়া
৩। সপ্তাহে একবার কিংবা দুবার বাজারে যাওয়া, জাপানে খাবার কিংবা অন্যান্য দরকারী জিনিসপত্রের স্টক যথেষ্ট পরিমানে আছে তাই ইমারজেন্সী ২-৩ মাস থাকলেও বাজারে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাবেন, অযথা পেনিক হওয়ার কারন নেই।
৪। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে পার্কে বেড়ানো কিংবা জগিং করাতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না
বাংলাদেশী প্রবাসীরা কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
১। জাপানিজরা যেমন মারা যাচ্ছে সাবধান না হলে বাংলাদেশী প্রবাসীরাও আনুপাতিক হারে মারা যাবে। করোনা ভাইরাস এখন পর্যন্ত এমন কোন আচরণ করেনি যাতে বুঝা যায় বাংলাদেশীরা বেঁচে যেতে পারে। বরং আমার কাছে মনে হয় আমরা শারীরিকভাবে জাপানীজদের তুলনায় অনেক দুর্বল তাই বাংলাদেশীরা বেশি মারা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এখন পর্যন্ত বয়স্ক জাপানীজরাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে, তবে যেহেতু জাপানের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেংগে পড়ার উপক্রম তাই এখন থেকে কম বয়সীরাও চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাবে, এটা নিশ্চিত বলা যায়।
২। এখন পর্যন্ত করোনার কারনে ৮০,০০০ মত লোক চাকুরী হারিয়েছে, যার মধ্যে অনেক বাংলাদেশীও আছে। আগামী ২-৩ মাস এই সংখ্যাটা বেশ বাড়বে এবং নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশীদের সংখাও বাড়বে। আগামী অর্থ বছর থেকে বেতন/বোনাস কমাবে বা কমাতে বাধ্য হবে অনেক অফিস, এর জন্য এখন থেকেই চিন্তা করতে হবে অর্থাৎ টাকা জমিয়ে রাখতে হবে প্রয়োজনের সময় খরচ করার জন্য।
আগামী তিনমাস (মিনিমাম) ঘরে শুধু নিজের পরিবার নিয়ে থাকার চেষ্টা করুন, আমি গত একবছর ধরে তাই করছি। এপ্রিল মাস থেকে আশা করছি অনেক কিছুই স্বাভাবিক হয়ে যাবে, ততদিন পর্যন্ত একটু……… প্লিজ…
লিংকন
টোকিও জানুয়ারি ৬, ২০২১
Lincon Bd
| শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | |||
| ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ |
| ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ |
| ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ |
| ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ||