| ২৮ মার্চ ২০২১ | ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 480 বার
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হলো। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার অর্ধশত বছর উদযাপন করা হলো। গৌরবময় দিনের স্মরণের মধ্য দিয়ে নতুন দিগন্তে ছুটে চলার প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হচ্ছে জাতি। স্বাধীনতার এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শের ক্ষণটি বিশেষভাবে উদযাপনের আয়োজন করেছে সরকার। বিদেশী অতিথিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সাড়ম্বরে দিবসটি পালন হলো। কিন্তু এত আয়োজনের মধ্যেও কোথায় যেন একটু বেসুরো বাজছে। সরকারের এই আয়োজনের সাথে বৃহত্তর গণমানুষের একাত্মতা অনুভব করা যাচ্ছে না। উদযাপন অনুষ্ঠানে সাধারণ জনগণের তেমন অংশগ্রহণ নেই।
একটি জাতির ইতিহাসে ৫০ বছর খুব দীর্ঘ একটা সময় নয়। তবে বিগত কয়েক যুগে জাতিসত্তার যে বিকাশ ও উন্নয়ন হয়েছে সেটি লক্ষণীয়। দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সাথে প্রায় একই সময়ে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশগুলো কিংবা যেসব দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার সাথে বাংলাদেশের বিশেষ মিল রয়েছে তাদের মধ্যে অনেক দেশ প্রভূত উন্নতি করেছে। যেমন, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কথা বলা যায়। দেশ দু’টি এখন উন্নত দেশগুলোর অন্যতম। এই দেশগুলো কেবল যে জনসাধারণের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আমূল পাল্টে দিয়েছে তাই নয়, তারা সুশাসনও প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। গণতন্ত্র পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। তাদের নাগরিকরা রাজনৈতিক সামাজিক ক্ষেত্রে পূর্ণ মর্যাদা ভোগ করে।
স্বাধীন বাংলাদেশের একটি উজ্জ্বল পটভূমি রয়েছে। এ দেশের মানুষ শোষণ-বঞ্চনাহীন ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার অভিপ্রায়ে রাষ্ট্র গঠন করেছে। এ জন্য দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে। অনেক মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে। এক কথায় আমাদের স্বাধীনতা চড়া দামে কেনা। স্বাধীনতার চেতনা ছিল শোষণ-নিপীড়নমুক্ত অবাধ মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা। আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হয় স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নকারী সেসব বীরদের। একই সাথে আমরা যথেষ্ট সন্তুষ্টিও প্রকাশ করতে পারি ৫০ বছরের অর্জন নিয়ে। দেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ অগ্রসর হয়েছে। তবে একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে এখনও অনেকটা পথ বাকি।
দেশ স্বাধীন করেছি এমন একটা দেশ পাওয়ার জন্য যেখানে মানুষের মতপ্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা থাকবে। প্রত্যেকে তার মতামত স্বাধীনভাবে ব্যক্ত করতে পারবে। আজ মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার নানাভাবে সীমিত করা হয়েছে। মানুষের মুখ বন্ধ রাখার নানা কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা আছে। এ ছাড়া গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা আরো করুণ। নির্বাচনব্যবস্থা অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে। মুষ্ঠিমেয় কিছু মানুষ সব ক্ষেত্রে সীমাহীন স্বাধীনতা ভোগ করছে। এর বিপরীতে বেশির ভাগ মানুষের গণতন্ত্র চর্চার পথ প্রায় পুরোপুরি রুদ্ধ। অথচ স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমাদের একটা উন্নত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকতে পারত।
বলা হচ্ছে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটেছে। ক্ষমতাসীনদের প্রচারণা অনুযায়ী আমরা এখন উন্নয়নের পথে দ্রুত ধাবমান। আমাদের লক্ষ্য এখন উন্নত দেশ হওয়া। বাস্তবে বঞ্চিত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। মানুষের মধ্যে ধনী-গরিব ব্যবধান চওড়া হয়েছে। সমাজে এখনও আক্ষরিক অর্থে বিপুল দারিদ্র্য বিরাজ করছে। অন্য দিকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নেই সাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। একশ্রেণীর জন্য দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ সঞ্চিত করার পথ খুলে দেয়া হয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি অনেক আগেই উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ে উন্নীত হতে পারতাম না কিংবা দেশকে দাঁড় করাতে পারতাম না উন্নত দেশের কাতারে? কেন পারিনি, তা জানতে স্বাধীনতা দিবসের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আত্মসমালোচনার প্রয়োজন আছে।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে আমরা আশাবাদী হতে চাই। এ দেশে নতুন চেতনার বিকাশ হবে। মানুষের মধ্যে বৈষম্য দূর হবে। মানুষের ন্যায্য গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা নেয়া হবে।
| শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | |||
| ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ |
| ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ |
| ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ |
| ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ||