• শিরোনাম

    কোভিডের সাথে ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু !

    | ২৮ জুলাই ২০২১ | ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 985 বার

    কোভিডের সাথে ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু !

    দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যখন ক্রমেই বেড়ে চলেছে ঠিক সেই সময়ে বাড়তে শুরু করেছে ভাইরাসজনিত রোগ ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ। গত শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮১ জন। এর মধ্যে ৮০ জনই রাজধানীর। শুধু একজন ঢাকার বাইরের। এ তথ্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩৩৬ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছেন ৩৩১ জন এবং অন্যান্য বিভাগে বর্তমানে পাঁচজন রোগী ভর্তি আছেন। নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও বেশি রাজধানীতেই। সুতরাং বলা যায়, ডেঙ্গুর সংক্রমণ এবার রাজধানীকেন্দ্রিক। করোনার ভয়াবহতার কারণে এবার ডেঙ্গু নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য শোনা যাচ্ছে না কোনো পক্ষ থেকেই। কিন্তু করোনা এবং ডেঙ্গু দু’টি মিলিয়েই পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগীও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। দু’টি রোগের লক্ষণের মধ্যে কিছু দৃশ্যমান মিলও আছে। ফলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে করোনা বলে ভুল করার কিংবা করোনা আক্রান্ত হলে ডেঙ্গু ভাবার অবকাশ থেকে যায়। বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

    পবিত্র ঈদুল আজহা সমাগত, ঈদ উদযাপনের নানা প্রস্তুতিতে যখন সবার মেতে ওঠার কথা; সে সময় মানুষ ব্যতিব্যস্ত রোগ শোক নিয়ে। ফলে ঈদের আনন্দ ফিকে হওয়ার উপক্রম। কিন্তু তার পরও ঈদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। সব সময়ের মতো এবারো বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বজনের সাথে মিলে ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে। গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে পড়া করোনার ভীতি উপেক্ষা করে মানুষ ছুটছে নাড়ির টানে। সরকারও বিধিনিষেধ কয়েক দিনের জন্য শিথিল করেছে।

    বাংলাদেশে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ থাকে। একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, ডেঙ্গুজ্বর এবং কোভিড-১৯ দু’টিই ভাইরাসজনিত রোগ। তবে এর মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। দুই রোগেই জ্বর, গলাব্যথা, সর্দি, কাশি এবং স্বাদ না থাকার মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে। করোনার ক্ষেত্রে এসব লক্ষণের সাথে রোগী নাকে ঘ্রাণ পায় না। কারো ডায়রিয়া হয়। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা হতে পারে। ডেঙ্গুজ্বরে শ্বাসকষ্ট হয় না। এতে আক্রান্ত হলে চার-পাঁচ দিন পর রোগীর শরীরে লাল অ্যালার্জির মতো র্যাশ হতে পারে। রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা কমে যেতে পারে। নাক দিয়ে রক্ত পড়লে অথবা কালো পায়খানা হলে দেরি না করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

    ডেঙ্গু বিষয়ে সতর্কতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে। ডেঙ্গুর বাহক যে এডিস মশা সেগুলোর জন্মস্থান অর্থাৎ নর্দমা, বাসাবাড়ির জমে থাকা পানির আধারগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। মূলত ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। ঈদের কোরবানির পর এ বিষয়ে সবিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কোরবানির পর যত দ্রুত সম্ভব ব্লিচিং পাউডার ও পানি দিয়ে এমনভাবে বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার করতে হবে, যাতে কোথাও পানি জমে না থাকে। বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করতে হবে। পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সবারই সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ একজনের বাসার জমে থাকা পানিতে এডিস মশা জন্মালে তা থেকে কেবল সেই বাসার লোকেরাই নয়, আশেপাশের সব বাসার মানুষই আক্রান্ত হতে পারে। এর বাইরে ঘরে মশারি ব্যবহার করতে হবে। মশারি ছাড়া ঘুমানো পরিহার করতে হবে।

    আমাদের সিটি করপোরেশন বেলায় বেলায় কিছু বিষাক্ত ধোঁয়া ছিটিয়ে যাওয়ার বাইরে পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে হেলাফেলার দায়ে কিছু মানুষের জরিমানা ইত্যাদি করছে। তাতে ভরসা করলে চলবে না। নিজের সতর্কতা নিজেকেই নিতে হবে।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ

    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০ 
  • ফেসবুকে দশদিক