| ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 398 বার
এক সপ্তাহে দেশে করোনা সংক্রমণ কমেছে ৩৩ শতাংশের বেশি, যদিও গত সাত দিনে সংক্রমণ কমেছে-বেড়েছে। অন্য দিকে গত সপ্তাহে এর আগের সপ্তাহের চেয়ে মৃত্যু কমেছে ২৫ শতাংশের বেশি। গত ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ২০ হাজার ৯১৯ জন করোনা শনাক্ত হলেও গত ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ১০ হাজার ৫২০ জন বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
এ দিকে গতকাল সোমবার আগের দিন রোববারের চেয়ে করোনা শনাক্ত বেড়েছে। গতকাল সারা দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৭১০ জন এবং মৃত্যু ঘটেছে ৬৫ জনের। গত রোববার করোনা শনাক্ত হয় দুই হাজার ৪৩০ জনের; অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২৮০ জন বেশি শনাক্ত হয়েছে। তবে আগের চেয়ে গতকাল মৃত্যু কমেছে ৫ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, গত ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে করোনায় যে পরিমাণ মৃত্যু হয়েছে এর আগের সপ্তাহে এর চেয়ে ১৮৫টি মৃত্যু বেশি হয়েছে। এ তথ্য থেকে চিকিৎসকরা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে সংক্রমণ ও মৃত্যু আরো কমবে যদিও শিগগিরই করোনা থেকে মানব সমাজ নিষ্কৃতি পাচ্ছে না। চিকিৎসকরা বলছেন, বিরতি দিয়ে কিছু দিন পরপর সংক্রমণ চলতেই থাকবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাবিষয়ক তথ্যানুসারে, ৯ থেকে ১৫ আগস্ট দেশে এক হাজার ৫২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর সাত দিন পর ১৬ থেকে ২২ আগস্ট করোনায় মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ১০৭ জনের। ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭৩৩ জনের এবং সর্বশেষ ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর সারা দেশে মৃত্যু হয়েছে ৫৪৮ জনের। দেখা যাচ্ছে, গত ৯ আগস্ট থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ২৮ দিনে দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ৯১১ জনের। এ সময়ের মধ্যে প্রতি সপ্তাহেই করোনা আক্রান্তদের মৃত্যু কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এ প্রসঙ্গে চিকিৎসকরা বলছেন, সংক্রমণের সাথে মৃত্যুর একটি সম্পর্ক রয়েছে। সংক্রমণ কমে গেলে হাসপাতালে ভর্তি নতুন রোগীর সংখ্যা কমে যায়। আর বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেয়ার চেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারলে ওষুধ ও সেবা পাওয়ায় রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে যায় এবং মৃত্যুও কমে যায়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাবিষয়ক তথ্যানুসারে ৯ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৫ হাজার ২০৭ জন, ১৬ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৯৬ জন, ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ৩১ হাজার ৫৩৯ জন, ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০ হাজার ৯১৯ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এসব সংখ্যা সম্পর্কে চিকিৎসকদের ভিন্ন ধারণা রয়েছে। তারা বলছেন, এটি প্রকৃত সংখ্যা নয়। কারণ বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত সব মানুষই করোনা পরীক্ষা করাতে আসেন না। এদের বেশির ভাগই সর্দি-কাশির ওষুধ খেয়েই সুস্থ হয়ে গেছেন। ফলে স্বাস্থ্য অধিদফতর যে সংখ্যাটি দৈনিক নিয়ে থাকে তা তাদের প্রতিষ্ঠানে যারা নমুনা পরীক্ষা করাতে এসেছেন সেই সংখ্যাটিই দিচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যাটাও প্রকৃত সংখ্যা নয়। করোনার লক্ষণ ছিল কিন্তু পরীক্ষা না করানোর কারণে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের নাম স্বাস্থ্য অধিদফতরের তালিকায় রাখা হয় না।
আবার সংক্রমণের সাথে সুস্থতার সংখ্যাও কমছে। যেমন ৯ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে সুস্থ হয়েছে ৮৭ হাজার ২৫১ জন এবং ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৩৫ হাজার ৩৬৬ জন। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে মোট ২৭ হাজার ৫৯৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং করোনা সংক্রমণ ছিল ৯.৮২ শতাংশ। এ নিয়ে দেশে ১৫ লাখ ১৭ হাজার ১৬৬ জন করোনা শনাক্ত হয় এবং করোনা থেকে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৮৭ জন। মৃতদের ৩২ জন পুরুষ এবং ৩৩ জন নারী। গতকাল মৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী; ২৪ জন।
খুলনা বিভাগে মৃত্যু ও শনাক্ত বেড়েছে
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনা বিভাগে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা গতকাল সোমবার আবার বেড়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ১১ জনের মৃত্যু এবং নতুন শনাক্ত হয় ১৬৭ জনের। গত রোববার খুলনা বিভাগে দু’জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে নতুন করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১৪১ জনের। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর সূত্র জানায়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়ায় তিনজন করে এবং নড়াইল ও ঝিনাইদহে একজন করে মারা যান।
রামেক হাসপাতালে আরো ১০ জনের মৃত্যু
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তারা মারা গেছেন। মৃত সবাই মারা গেছেন করোনা উপসর্গ নিয়েই। গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃত ১০ জনের মধ্যে রাজশাহীর ছয়জন, নাটোরের একজন ও নওগাঁর তিনজন ছিলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালের পিসিআর মেশিনে ১৪৯টি নমুনা পরীক্ষায় ২২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আর রামেক পিসিআর মেশিনে ৪৮১টি নমুনা পরীক্ষায় ৮৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রাজশাহীতে শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চট্টগ্রামে করোনায় ৬ দিনে ২৪ জনের মৃত্যু
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, করোনায় সংক্রমণের হার কমলেও চট্টগ্রামে মৃত্যুহার বাড়ছে। চলতি মাসের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৪ জন করে মারা গেছে। গত ছয় দিনে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জনই বিভিন্ন উপজেলার এবং আটজন নগর এলাকার বাসিন্দা। এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মৃত্যুবরণ করেছেন পাঁচজন।
গতকাল সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৫২টি নমুনা পরীক্ষায় ৭৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন মহানগর এলাকার এবং ২৬ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ১২১ জন। এদের মধ্যে ৭২ হাজার ৭০২ জন মহানগর এলাকায় এবং ২৭ হাজার ৪১৯ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
| শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | |||
| ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ |
| ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ |
| ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ |
| ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ||