• শিরোনাম

    চরম দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য অধরাই থাকছে: বিশ্বব্যাংক

    | ০৫ অক্টোবর ২০২২ | ১১:১১ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 118 বার

    চরম দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য অধরাই থাকছে: বিশ্বব্যাংক

    কয়েক দশকের চেষ্টায় দেশে দেশে চরম দারিদ্র্য বিমোচনে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল বিশ্ব। তবে করোনা মহামারির ফলে সেই অগ্রগতি থমকে গেছে। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বকে চরম দারিদ্র্যমুক্ত করার যে লক্ষ্য তা সম্ভবত অধরাই থেকে যাবে। দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে এমন হতাশার কথাই শুনিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
    করোনা মহামারির মধ্যে বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্যের হার বেড়ে গেছে। বিশ্বব্যাংকের এক পরিসংখ্যানমতে, ২০২০ সালে বিশ্বের প্রায় ৭ কোটি মানুষ নতুন করে চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়ে। ১৯৯০ সালে দারিদ্র্যের তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে এক বছরে এত বেশি মানুষের দরিদ্র হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।

    বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টমতে, করোনার কারণে সারাবিশ্বে রীতিমতো ঝড় বয়ে যায়। সব থেকে দুর্দশার মুখে পড়ে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। প্রায় ৭ কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়। অর্থাৎ বিশ্বব্যাংকের দেয়া দারিদ্র্যের নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে বিশাল একটা জনগোষ্ঠীকে দৈনিক আয় ২.১৫ ডলারের নিচে জীবন চালিয়ে নিতে হয়। এক্ষেত্রে দরিদ্র তথা অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেকায়দায় পড়ে।
    এরপর করোনা মহামারি শেষ হলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং শোচনীয় থেকে আরও শোচনীয় হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতেই বৈশ্বিক ঋণদান সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, বছরের (২০২২) শেষ নাগাদ নতুন করে আরও ৯ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দায় সেই আশঙ্কা আরও ঘনিভূত হচ্ছে।

    সবশেষ বুধবার (৫ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাসের কণ্ঠে সেই হতাশাই ফুটে উঠেছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও অন্যান্য সংকট আরও খারাপ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চরম দারিদ্র্য বিমোচনে গত কয়েক দশকের অগ্রগতি বৈশ্বিক মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে থমকে গেছে।’

    দারিদ্র্যবিরোধী লড়াইয়ের ফলে বৈশ্বিক চরম দারিদ্র্যের হার অনেকটাই কমে আসে। ১৯৯০ সালে দারিদ্র্যের হার যেখানে ৩৮ শতাংশ ছিল, ২০১৯ সালে তা ৮.৪ শতাংশে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু করোনার কারণে সেই অগ্রগতি থেমে যায়। বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের মতে, করোনার কারণে এক্ষেত্রে যে ক্ষতি হয়েছে তা ২০৩০ সালের মধ্যে পূরণ সম্ভব নয়। ফলে দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্য অধরাই থেকে যাচ্ছে।

    বিশ্ববাংকের তথ্য মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের মাত্র ৭ শতাংশ তথা মাত্র ৬০ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু করোনার পর এরইমধ্যে এর কয়েকগুণ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় পরিস্থিতি আফ্রিকার দেশগুলোতে। বর্তমানে এ মহাদেশের ৬০ শতাংশ মানুষই চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০১ অক্টোবর ২০২০

    ১২ অক্টোবর ২০২০

    ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ০৪ অক্টোবর ২০২০

    ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

    ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ

    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০ 
  • ফেসবুকে দশদিক