• শিরোনাম

    জাপানে বাংলাদেশি গবেষকের সাফল্য

    | ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ | পড়া হয়েছে 730 বার

    জাপানে বাংলাদেশি গবেষকের সাফল্য

    বাংলাদেশি গবেষক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও তার টিম রক্ত থেকে আলঝেইমার নির্ণয়ের একটি সহজ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। আব্দুল্লাহ বর্তমানে জাপানের নাগোয়া সিটি ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব মেডিক্যাল সায়েন্সের প্রফেসর মাকোতো মিচিকাওয়ার অধীনে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করে নাগোয়া সিটি ইউনিভার্সিটি থেকেই পিএইচডি করেন। খবর জাপান টাইমস।

    আব্দুল্লাহ জানান,‘আমাদের শরীরে এক্সোজম আছে, একটি ছোট্ট বহির্মুখী ভেসিকেল (৩০-১০০ ন্যানো মিটার) এবং অ্যান্ডোসোমাল সিস্টেম থেকে প্রাপ্ত—যা নিউরোন, অ্যাস্ট্রোসাইট এবং অলিগোডেনড্রোসাইটের মতো বিভিন্ন ধরনের কোষের দ্বারা নিঃসৃত এবং রক্ত, প্রস্রাব, লালা এবং সেরিব্রোস্পাইনাল তরল হিসেবে অনেক দেহের তরল থেকে প্রাপ্ত। এক্সোজম বাহক হিসেবে শরীরের কোষ থেকে কোষে যোগাযোগ রক্ষা করে। ফ্লটিলিন (Flotillin) আমাদের শরীরের একটা প্রোটিন (Lipid raft) যা এই এক্সোজম মার্কার হিসেবে ব্যবহূত হয়।’ তারা দেখেছেন আলঝেইমার রোগীর রক্তে ফ্লটিলিনের উপস্থিতি অনেক কম। তারা মনে করেন রক্তের ফ্লটিলিন পরিমাপ করে আগে ভাগেই শরীরের আলঝেইমারের উপস্থিতি নির্ণয় করা সম্ভব হবে। তাদের এই গবেষণাকর্মটি ‘জার্নাল অব আলঝেইমারস ডিজিজ’ নামক বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে প্রকাশের জন্য গৃহীত হয়েছে এবং আলঝেইমার নিরূপণের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার ডা. আব্দুল্লাহ, প্রফেসর মিচিকাওয়া এবং অন্য আরেক প্রফেসরের নামে পেটেন্ট করা হয়েছে। গবেষণাকর্মটি এর মধ্যে জাপানে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জাপানের অনেকগুলো জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেল এই আবিষ্কার নিয়ে খবর প্রকাশ ও প্রচার করেছে। বিজ্ঞানবিষয়ক অনেক ওয়েব সাইট ও ব্লগ আব্দুল্লাহদের এই আবিষ্কার নিয়ে কাভার স্টোরি করেছে।

    আলঝেইমার রোগটি মানুষের মস্তিষ্কের কোষগুলোকে ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত করে ফেলে। এতে করে মানুষের স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে মানুষ মারা যায়। এখন পর্যন্ত আলঝেইমার রোগ নির্ণয়ের জন্য পজিট্রন ইমিশন টমোগ্রাফি (PET) ও সেরেব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF) এনালাইসিস করা হয়। যার একটি অনেক ব্যয়বহুল এবং আরেকটি ঝুঁকিপুর্ণ ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

    প্রফেসর মাকোতো মিচিকাওয়া জাপান টাইমসকে বলেছেন, ‘শরীরের এক ফোঁটা রক্ত থেকেও ফ্লটিলিন পরিমাপ করে রোগের লক্ষণ প্রকাশের অনেক আগেই আলঝেইমারের উপস্থিতি নিরূপণ করা সম্ভব।’ তারা এখন জাপানের এক স্বনামধন্য কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কম খরচে আরো সহজে কীভাবে এটি ব্যবহার করা যায়, সেজন্য কাজ করছেন।

    আগেই জানা গেছে যে এমাইলোয়েড বেটা নামক এক অস্বাভাবিক প্রোটিন রোগের লক্ষণ প্রকাশের প্রায় বিশ বছর আগেই আলঝেইমার রোগীদের ব্রেইনের কোষে জমতে শুরু করে। ফ্লটিলিন পরিমাপ করে যদি অনেক আগেভাগেই, সহজে এবং কম খরচে আলঝেইমার রোগ নির্ণয় সম্ভব হয় তবে তা অবশ্যই রোগীদের জন্য অপরিসীম কল্যাণ বয়ে আনবে।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০২ এপ্রিল ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০ 
  • ফেসবুকে দশদিক