| ২৭ আগস্ট ২০১৯ | ২:৩৩ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 685 বার
চলতি মাসের ২৮ তারিখ আগামী বুধবার ইয়োকোহামায় আফ্রিকার উন্নয়ন বিষয়ক টোকিও আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা টিকাড শুরু হবে। জাপান সরকারের নেতৃত্বে ১৯৯৩ সাল থেকে টিকাড অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বছর এ সম্মেলনের সপ্তম আসর অনুষ্ঠিত হবে। আফ্রিকার উন্নয়ন সংক্রান্ত সম্ভাব্যতা এবং সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য জাপান এবং আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতিনিধিবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনের কর্মকর্তাগণ একত্রে সমবেত হবেন।
সম্মেলনকে সামনে রেখে আমরা দু’জন বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছি। ধারাবাহিক এ সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে আমরা কিয়োতো বিশ্ববিদ্যালয়ের আফ্রিকা বিষয়ক শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক মোতোকি তাকাহাসি’র সাক্ষাৎকার প্রচার করছি। আমরা তাকে আফ্রিকার উন্নয়নে জাপানের ভূমিকা নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম।
মোতোকি তাকাহাসি বলেন, আফ্রিকার সাথে জাপানের ঔপনিবেশিকবাদের ইতিহাসের মত কোন ঐতিহাসিক বন্ধন নেই অথবা আমাদের সাথে শক্তিশালী অর্থনৈতিক বন্ধন বা দৃঢ় রাজনৈতিক এবং সামরিক বন্ধন নেই। তারপরেও আফ্রিকার উন্নয়নের ওপর আলোকপাত করে আমরা সম্মেলন করে আসছি। আমি মনে করি এটি একটি কূটনৈতিক সুদৃঢ়তা যা জাপান বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারে। আফ্রিকার অর্থনীতি মন্দাভাবের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং ব্যবসার জন্যে খুব একটা সম্ভাবনা দেখাতে পারেনি, কিন্তু জাপান এই পদক্ষেপ নিয়েছে সহায়তার আহবান জানাতে।
তিনি বলেন, এশিয়ার মত আফ্রিকায়ও জাপান অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরিতে সাহায্য করছে এবং শিক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য সেবার মাধ্যমে মৌলিক মানবিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা প্রদান করছে। আফ্রিকা ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধি দেখানোর প্রেক্ষাপটে জাপান বিশেষ করে এমন এক অনন্য অবস্থানে রয়েছে যে দেশটি আফ্রিকার বিচিত্র প্রয়োজনের কথা বলতে পারবে। জাপানের সেসব সুযোগের সুবিধা নেয়া উচিত।
মোতোকি তাকাহাসি বলেন চীনের দেয়া প্রচুর পরিমানে অর্থনৈতিক সহায়তা নজর কাড়ছে কিন্তু এটি সুষ্ঠু সাম্যাবস্থা নয়, কেননা এর বেশিরভাগ হছে ঋণ যা অবকাঠামো খাতে দেয়া হচ্ছে। জাপান একটি শিল্পনির্ভর রাষ্ট্র যা যথাযথ এবং উচ্চ প্রযুক্তির পণ্য রপ্তানি করে। অপরদিকে চীন আফ্রিকার জণগনের কাছে জনপ্রিয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোগ্যপণ্য রপ্তানি করে।
সুতরাং, জাপান এবং চীনের মধ্যকার প্রতিযোগিতার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া অর্থহীন। যেহেতু তাদের শিল্প এবং রপ্তানির ধরণ ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।
তাকাহাসি বলেন উন্নয়নশীল এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো আফ্রিকার দেশগুলোকে প্রচুর পরিমাণে অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে, তবে কখনো কখনো তারা দেশগুলোকে সহায়তার উপর নির্ভরশীল হওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উন্নয়ন প্রাথমিকভাবে শুরু হওয়া উচিত এবং আফ্রিকার জনগণ এবং তাদের সরকার দ্বারা তা চলমান হওয়া উচিত। যা প্রয়োজন তা হলো টেকসই এবং মুক্ত উন্নয়নের জন্য মানব সম্পদ এবং আইন ও অবকাঠামোর উন্নয়ন। জাপানের ঐসব ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করা উচিত।
মোতোকি তাকাহাসি বলেন আমি মনে করি এবছরের টিকাড সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্যে ফিরে আসার লক্ষ্যে জাপানের জন্য একটি সুযোগ। যাতে নিজ স্বার্থের দিকে নজর না দিয়ে আফ্রিকার উন্নয়নে সহায়তার পাশাপাশি জাপান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আফ্রিকার সাথে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে দীর্ঘ-মেয়াদী সহায়তা শুরুর একটি লক্ষ্য নির্ধারণে করতে পারে। যেখানে একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে সর্ববৃহৎ জনসংখ্যার আশা করা হচ্ছে।
| শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | |||
| ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ |
| ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ |
| ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ |
| ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ | ৩০ | ||