• শিরোনাম

    অন্ধকারের মাঝেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন কিইভ এক্সপ্রেসের যাত্রীরা

    | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৯:৩২ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে 3 বার

    অন্ধকারের মাঝেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন কিইভ এক্সপ্রেসের যাত্রীরা

    কিইভ এক্সপ্রেস হলো ইউক্রেনের রাজধানী কিইভ এবং পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ’র মধ্যে চলাচলকারী একটি রাতের ট্রেন। ইউক্রেনীয় যাত্রীদের বেশিরভাগই হলো নারী এবং শিশু, কেননা নির্দিষ্ট একটি বয়সের পুরুষদের বাধ্যতামূলকভাবে সামরিকবাহিনীতে যোগ দিতে হয় এবং দেশ ত্যাগ করা তাদের জন্য নিষিদ্ধ।

    তবে কেউ কেউ সংঘাত থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন, আবার অন্যরা স্বল্প সময়ের জন্য হলেও দেশে ফিরে আসছেন। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এনএইচকে ওয়ার্ল্ডের একটি দল কিইভ এক্সপ্রেসে চড়ে যাত্রা করেছিল। উন্নত ভবিষ্যতের আশায় অপেক্ষা করে আছেন, এমন অনেক মানুষের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হয়।
    বিশ্বের সাথে এক সংযোগ

    কিইভ এক্সপ্রেস কিইভ সেন্ট্রাল স্টেশনে পৌঁছাচ্ছে।
    রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে নিরাপত্তার কারণে ইউক্রেনে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। রেল পরিষেবার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কিইভ এক্সপ্রেস হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ট্রেন। যাত্রা প্রতি প্রায় ১১৯ ডলার মূল্যের টিকিট নিয়মিতভাবে বিক্রি হয়ে যায়।

    দেশের জাতীয় রেল কোম্পানি, ইউক্রেনীয় রেলওয়ে এই ট্রেনটি পরিচালনা করে থাকে। এটি প্রতিদিন গন্তব্যস্থলে যাত্রা করা বা বিপরীত অভিমুখে ফিরে আসার সময় ৮০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করে থাকে, যার জন্য প্রায় ১৫ ঘন্টা সময় লাগে।

    কিইভ এক্সপ্রেস চলাচলের পথ।
    যুদ্ধকালীন সময়েও নির্ভরশীল
    এনএইচকে ওয়ার্ল্ডের সদস্যরা কিইভ সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে ওয়ারশ’র উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ট্রেনটি সময় মতো রাত ৮টা ২১ মিনিটে স্টেশন ত্যাগ করে এবং টানা প্রায় ৭ ঘন্টা ধরে ইউক্রেনের মধ্যে দিয়ে যাত্রা করে। বিমান হামলার সাইরেন বাজার সময়েও ট্রেনটি থেমে যায়নি। ইউক্রেনীয় রেলওয়ে জানায় যে যত দ্রুত সম্ভব দূরত্ব অতিক্রম করাটাই নিরাপদ এবং কেবল সরাসরি হামলার শিকার হলেই পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হয়।

    ২০২২ সালে হামলার প্রথম দিকে, রাশিয়ার সৈন্যরা রাজধানীতে প্রবেশের সময় রেলপথ এবং সেতু ধ্বংস করে দিয়েছিল। তবে কিইভ এক্সপ্রেস প্রতিদিন চালু ছিল, জরুরি অবস্থার সময় প্রয়োজনে রেলটি কিছুটা পথ পরিবর্তন করে নেয়।

    যাত্রাপথে কোনোও সতর্কতা জারি করা হয়েছে কি না, কন্ডাক্টররা তা পরীক্ষা করেন।
    ওয়ারশ’তে কিছুটা স্বস্তির আশায়
    চলমান সংঘাত থেকে বিরতি নিতে অনেক নারী ও শিশু ওয়ারশ’র উদ্দেশ্যে যাত্রা করে থাকে। পদবী জানাতে অনিচ্ছুক নাতালিয়া নামে নিজের পরিচয় দেওয়া এক নারী বলেন, তিনি কিইভের বাসিন্দা। এনএইচকে ওয়ার্ল্ড তাকে জিজ্ঞাসা করে যে, তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই হামলা এবং লড়াই সম্পর্কে তিনি কী মনে করেন।

    যাত্রী নাতালিয়া কিইভের একজন বাসিন্দা।
    তিনি বলেন, “আমি ক্লান্ত এবং হতাশাগ্রস্ত। বিমান হামলার সাইরেনের সাথে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি, সে কথা বলতে না পারলেও এটা বলবো যে মানুষ সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিতে শিখে যায়। আমি রাতে জেগে থাকি এবং আমার বাচ্চারা নিরাপদে আছে কি না, তা নিশ্চিত করি। কিন্তু কখনো কখনো মনে হয় যে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।”

    “আমার ছেলের কিন্ডারগার্টেন স্কুলে রাতে হামলা চালানো হয়েছিল, কিন্তু পরের দিন সকালে উঠে আমরা আবার জামাকাপড় পরে নিজেদের কাজ করতে থাকি।”

    নাতালিয়া বলেন, সেনাবাহিনীতে যোগদানের বয়সের কোঠার মধ্যে তার স্বামী পড়েন, তাই তার পক্ষে দেশ ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে তিনি তার সন্তানদের নিয়ে যাত্রা করছেন কেননা তাদের বিশ্রামের প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, “আমরা ওয়ারশ’তে বন্ধুদের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। আমাদের একটু বিরতি দরকার। গত দুই মাসের হামলায় আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আমার কাছে এই ট্রেনটি ভালোবাসা এবং পুনর্মিলনের প্রতীক। একইসাথে ট্রেনটি মানুষের জীবন বাঁচায়।”

    পারিবারিক পুনর্মিলন
    কিইভগামী ট্রেনটি আবেগে ভরা। অনেক যাত্রী ইউক্রেনে বাড়ি ফিরছেন, যেখানে তারা প্রিয়জনদের সাথে পুনরায় মিলিত হবেন।

    মেরিনা সিয়াতস্কা তার বাড়ি ফিরে আসছেন, যা হলো খারকিভের পূর্বাঞ্চলে। তিনি কিইভ শহরে একজন বিমান পরিচারিকা হিসেবে কাজ করছিলেন, কিন্তু যুদ্ধের কারণে তার চাকরি হারান।

    তিনি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি বিমান সংস্থায় কাজ করেন।

    যাত্রী মেরিনা সিয়াতস্কা সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানান্তরিত হয়েছেন।
    সিয়াতস্কা বলেন, “পরিবারকে এক বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলে রেখে একা বিদেশে যাওয়াটা আমার কাছে খুবই যন্ত্রণাদায়ক ছিল। মানসিক চাপ এবং অস্থিরতা, তার সাথে নতুন এক পরিবেশে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা এবং পরিবার সম্পর্কে উদ্‌বেগ অনুভব করা, এসব বিভিন্ন কারণে আমি একজন কাউন্সেলরের সাথে দেখা করতে শুরু করি।”

    সিয়াতস্কার বাবা-মা তাকে জানিয়েছেন যে তার ফিরে আসাটা খুবই বিপজ্জনক। তবুও বছরে অন্তত একবার তিনি কিইভ এক্সপ্রেসে চড়ে দেশে ফিরে আসেন।

    “বাড়ির গাছগুলো দেখতে পেলেও আমার খুব ভালো লাগে। আমি যেখানে থাকি সেখানকার বেশিরভাগই মরুভূমি, সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের জলবায়ু। তাই গাছগুলো আমাকে আনন্দে ভরিয়ে দেয় এবং আমার হৃদয়কে উষ্ণ করে তোলে।”

    তিনি বলেন, “আমি ইউক্রেনে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছি না। জানি যে দেশ নিরাপদ নয়, কিন্তু আমার পরিবারের সাথে পুনরায় মিলিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমার ভয় এবং উদ্‌বেগের চেয়েও শক্তিশালী।”

    গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা
    কিইভ এক্সপ্রেসের যাত্রীদের প্রত্যেকের জীবনেই একটি গল্প আছে। কেবল যাত্রীরাই নয় অক্লান্ত পরিশ্রম করা রেলের কর্মীদেরও নিজস্ব গল্প আছে। ইন্না কোহুত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একজন কন্ডাক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার স্বামী ইয়ারোস্লাভ যুদ্ধের প্রথম দিনগুলিতেই ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। গত দেড় বছর ধরে তিনি দোনেৎস্ক অঞ্চলে লড়াই করছিলেন। এখন তিনি নিখোঁজ।

    কন্ডাক্টর ইন্না কোহুত।
    কোহুত বলেন যে সেনা দলে নাম লেখানোর দপ্তর চাইলে অগস্ট মাসের প্রথম দিকেই তার স্বামীকে মৃত বলে ঘোষণা করতে পারতো। একথা বলতে বলতে তিনি কেঁদে ফেলেন।

    তিনি বলেন, “এটা খুব কঠিন এক সময়। আমার মনে হচ্ছে যে সেই মুহূর্তটি ক্রমশ ঘনিয়ে আসছে। আমার স্বামীর সহযোদ্ধারা আমাকে জানিয়েছে যে, সে মারা গেছে এবং আমার তাকে খুঁজতে যাওয়া উচিত নয়। কিন্তু আমি কিছুতেই এটা মেনে নিতে পারছি না।”

    কোহুত যাত্রীদের টিকিট চেক করেন এবং স্ন্যাক্স পরিবেশন করেন।
    কিইভ এক্সপ্রেসে কাজের মধ্যে জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পান কোহুত। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কিছু যাত্রীকে দেখে মানসিকভাবে অস্থির বলে মনে হয়। এই সংঘাত যেন তাদের নিজেদের অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। কন্ডাক্টরদের কখনোও কখনোও কাউন্সেলরের ভূমিকা গ্রহণ করতে হয়। মন দিয়ে মানুষের গল্প শুনতে হয় এবং তাদের শান্ত হতে সাহায্য করতে হয়।

    কোহুত বলেন তার স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার খবর শোনার পর তার সহকর্মীরা তাকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেন।

    তিনি বলেন, “আমার সহকর্মীরা না থাকলে কী যে হতো তা আমি কল্পনাও করতে পারি না। কঠিন সময়েও তারা সবসময় আমার পাশে ছিল। নেতিবাচক চিন্তাভাবনা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে কাজ আমাকে সাহায্য করে। আমি কী রকম দুর্দশার মধ্য দিয়ে গিয়েছি এবং সেগুলো কীভাবে কাটিয়ে উঠেছি সে কথা বলছি।”

    ইউক্রেনীয় রেল পরিষেবা অটুট রয়েছে
    ইউক্রেনীয় রেলওয়েকে প্রায়শই সংঘাতের মুখোমুখি হতে হয়। এই সকল কিছুর মধ্যেও, কোম্পানি তাদের পরিষেবা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা মানুষের মনে আশার আলো জাগায়।

    রুশ সামরিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ।
    রুশ হামলার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পথই মেরামত করতে হয়েছে কোম্পানিকে। তাদের রেলপথে ব্যবহৃত ধাতু দেশের পূর্বাঞ্চলীয় শহর মারিউপোলের একটি লোহা ও ইস্পাত কারখানা থেকে আনা হতো, যা ২০২২ সালে ধ্বংস হয়ে যায়।

    জাপান এবং ইউরোপীয় দেশগুলো এই শূন্যস্থান পূরণ করতে এগিয়ে এসেছে। জাপান গত বছর প্রায় ১৯০ কিলোমিটার রেলের ট্র্যাক দান করেছে। কিইভ এক্সপ্রেস যে রেলপথ ব্যবহার করে তার কিছু জায়গায় “নিপ্পন” শব্দটি খোদাই করা আছে।

    জাপানের দান করা রেলপথ।
    ইউক্রেনীয় রেলওয়ের ট্র্যাক নির্মাণ ও মেরামতের উপপ্রধান ওলেক্সান্ডার বোঝেননিক বলেন, “আমরা এই সহায়তার জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। জাপান এবং ইউরোপ রেলপথ সরবরাহ না করলে আমরা এই পরিষেবা প্রদান করতে পারতাম না।”

    একইসাথে ইউক্রেনীয় রেলওয়ে কিছু আন্তর্জাতিক ট্রেন যে ট্র্যাক ব্যবহার করছে সেগুলোকে ইউরোপীয় মান অনুসারে পরিবর্তন করার লক্ষ্যেও কাজ করছে, যা মানুষ এবং পণ্য পরিবহণকে ত্বরান্বিত করে তুলবে।

    সীমান্তের কাছে আন্ডারক্যারেজ পরিবর্তন করা হচ্ছে।
    ইউক্রেনের রেলপথগুলো রাশিয়ার মতোই ১,৫২০ মিলিমিটার প্রশস্ত, যেখানে ইউরোপের বেশিরভাগ রেলপথ হলো ১,৪৩৫ মিলিমিটার।

    বর্তমানে সীমান্ত পার হওয়ার সময় ট্রেনের আন্ডারক্যারেজ পরিবর্তন করতে হয়, যা হলো একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং এর ফলে প্রতিটি যাত্রায় প্রায় দুই ঘন্টা বেশি সময় লাগে।

    ইউক্রেনে ট্র্যাকের আকার ইউরোপ থেকে আলাদা।
    ইউক্রেনীয় রেলওয়ের আন্তর্জাতিক প্রকল্প কার্যালয়ের পরিচালক ভলোদিমির শেমায়েভ বলেন “আমরা সোভিয়েত আমলের ব্যবস্থা থেকে সরে আসছি। ইইউর সদস্যপদ অর্জনের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি, তাই আমাদের অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। রেলের ট্র্যাক পরিবর্তন হলো প্রথম পদক্ষেপ।”

    এই গল্পটি মূলত এনএইচকে ওয়ার্ল্ডের ‘ডকুমেন্টারি ৩৬০’ অনুষ্ঠানে সম্প্রচারিত হয়েছিল। ডকুমেন্টারিটির চিত্রগ্রহণ এবং সম্পাদনা যারা করেছিলেন তাদের জন্য এটি ছিল এক অবিস্মরণীয় যাত্রা।

    নোগুচি মাসাতো, এনএইচকে নাগাসাকি বিভাগের ভিডিয়োগ্রাফার
    আমি ছবি তোলার জন্য ১৫টিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করেছি, তবে যুদ্ধরত কোনোও দেশে এটিই ছিল আমার প্রথম সফর। জাপান ছাড়ার আগে আমি অত্যন্ত নার্ভাস ছিলাম। ইউক্রেনে প্রবেশ করার পর প্রতিদিন সেখানে বিমান হামলার সাইরেন বাজতো, কিন্তু কিইভে জীবন আশ্চর্যজনকভাবে স্বাভাবিক ছিল।

    ওই সাইরেনগুলো আমরা যে যুদ্ধক্ষেত্রে আছি, সে বিষয়ে আমাদের সবসময় সচেতন থাকতে সাহায্য করতো। ছবি তোলার জন্য আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি অনুমতির প্রয়োজন ছিল।

    ভোর হওয়ার পর কিইভ এক্সপ্রেসের অনেক যাত্রী করিডোরে বেরিয়ে আসেন।
    আমার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল যে দৃশ্য তা হলো, ভোর হওয়ার পর কিইভ এক্সপ্রেসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকা যাত্রীরা, যেমন: একজন মা তার ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে করিডোরে দাঁড়িয়ে আছেন অথবা চিন্তামগ্ন একজন বয়স্ক মহিলা। আমি স্বাভাবিকভাবেই আমার ক্যামেরা সে সব দিকে তাক করেছিলাম।

    আমরা যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি তাদের অধিকাংশই বলেছেন যে ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে আমরা যে বিশ্বের কাছে তা তুলে ধরছি, তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চলতে থাকায় এই বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের আগ্রহ কমে যাচ্ছে, যার ফলে তারা এক সংকট অনুভব করছেন।

    আমি যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করার কাজ চালিয়ে যেতে চাই এবং ইউক্রেনের উপর আমার মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে চাই।

    আম্মা হিদেও, এনএইচকে ওয়ার্ল্ডের ঊর্ধ্বতন ভাষ্যকার
    আমি ৩০ বছর ধরে ইউক্রেন এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যান্য দেশগুলোতে সাংবাদিকতার কাজ করেছি। আমি এতদিন পর্যন্ত রুশ ভাষায় ইউক্রেনীয়দের সাথে কথা বলে এসেছি, কিন্তু এবার দেখলাম লোকেরা রাশিয়ান ভাষায় কথা বলতে অনিচ্ছুক।

    আমি মানুষের বিভ্রান্তি অনুভব করেছি, বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে। একজন মহিলা যিনি সারা জীবন রুশ ভাষায় কথা বলে এসেছেন, হামলার পর থেকে তিনি ইউক্রেনীয় ভাষার ক্লাসে যোগ দিতে শুরু করেন।

    কিইভ এক্সপ্রেসে করে ওয়ারশ’র উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন, এমন একজন সাহসী মহিলা আমাকে বলেন যে তার পরিবার বিদেশে পালিয়ে গেছে এবং তাদের সাথে পুনর্মিলনের জন্য তিনি প্রথমবারের মতো একা আন্তর্জাতিক ট্রেনে ভ্রমণ করছেন।

    ইউক্রেনের মানুষ তথাকথিত নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্‌বেগ অনুভব করলেও প্রতিকূলতার সাথে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাদের, তাই এর মধ্যেও নিজেদের জীবন যাপন করে চলেছেন।

    ক্রেতারা বলছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনে খাদ্যপণ্যের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
    আমি একটি স্থানীয় সুপারমার্কেটে গিয়েছিলাম, সেখানে তাকগুলি অনেক পণ্যে ভরা ছিল। তাই আমার মনে হয়েছে যে সরবরাহ ব্যবস্থা, বিশেষ করে রেল পরিষেবা ভালোভাবে কাজ করছে। ইউক্রেন রেলওয়ের একজন কর্মী আমাদের বলেন যে রেলওয়ে হলো দেশের রক্তনালী এবং আমি অবশ্যই এর সাথে একমত।

    যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে কি না, তা স্পষ্ট নয়, তবে আমি আশা করি যে শীঘ্রই সেই দিন আসবে যখন জনগণ সত্যিকার অর্থে শান্তি ও নিরাপত্তা অনুভব করবে।

    মাবুচি মাই, এনএইচকে ওয়ার্ল্ডের প্রযোজক
    দুই বছর আগে আমি ওয়ারশ’র একজন গবেষকের সাথে কিইভ এক্সপ্রেস নিয়ে খবর করা শুরু করি। আমার উপর যেটা সবচেয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে, তা হলো যুদ্ধের সব মর্মান্তিক ঘটনা সত্ত্বেও যাত্রী এবং কন্ডাক্টররা যেভাবে এটা যেন কোনো ব্যাপারই না, এমন এক সাহসী মুখ করে নিজেদের কাজ করে চলেছেন।

    ২০২২ সালে বুচায় রুশ সেনাবাহিনী পরিচালিত গণহত্যার সময় বেঁচে যাওয়া একজন মহিলার সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। অনেক মহিলাই তাদের স্বামীদের নিয়ে চিন্তিত, যারা যুদ্ধক্ষেত্রে নিখোঁজ হয়েছেন।

    এসব দেখে আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, “আমি যদি তাদের জায়গায় থাকতাম, তাহলে কি আমি তাদের মতো নিজের কাজ করে যেতে পারতাম?” ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের সকলের সাথে কথা বলার জন্য তারা যে কতটা দ্বন্দ্ব এবং যন্ত্রণা কাটিয়ে উঠেছে, তা ভেবে দেখার চেষ্টা করলাম।

    এই মহিলা ২০২৩ সালে তার ৯ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে পোল্যান্ডে চলে যান। তিনি বলেন যে গর্ভবতী থাকাকালীন তার স্বামী যুদ্ধে মারা যান।
    কিছু লোক মনে করেন যে আমাদের সাথে কথা বলা তাদের পক্ষে অনুচিত হবে, কেননা তারা বাড়িঘর বা পরিবারের কোনো সদস্যকে হারাননি বা অন্য কোনো কষ্ট সহ্য করেননি, যা অনেক ইউক্রেনীয়দের করতে হচ্ছে।

    তবে ইউক্রেনের প্রতিটি মানুষ যেন যে-কোন মুহুর্তে বিপদ আসতে পারে, এরকম হুমকির সাথে বাস করছেন। এদের জীবনের গল্পগুলো যাতে হারিয়ে না যায়, সেই উদ্দেশ্যে আপনাদের সাথে এগুলো আমি ভাগাভাগি করে নিতে পারব বলে আমার প্রত্যাশা।

    Facebook Comments Box

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০ 
  • ফেসবুকে দশদিক